লেটেস্ট নিউজ

মাথায় পরচুলা, শিক্ষাগত যোগ্যতায় গলদ! স্বামীর জালিয়াতির শিকার নয়ডার তরুণী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

গ্রেটার নয়ডা: বলিউড অভিনেতা আয়ুষ্মান খুরানার ‘বালা’ সিনেমার কথা মনে আছে? যেখানে নায়ক নিজের টাক ঢাকতে পরচুলা বা উইগ ব্যবহার করে বিয়ে করেছিলেন। সিনেমার পর্দায় বিষয়টি মজার মনে হলেও, বাস্তবে এমন ঘটনাই এক তরুণীর জীবনে অভিশাপ হয়ে নেমে এল। উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডার বিসরাখ থানা এলাকায় এক ব্যক্তি নিজের টাক লুকিয়ে এবং ভুয়া পরিচয়ে বিয়ে করে স্ত্রীকে ব্ল্যাকমেল করার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন।

সুন্দর চুলের রহস্য ও আসল সত্যি

২০২৪ সালের ১৬ জানুয়ারি দিল্লির রানা প্রতাপ বাগের বাসিন্দা সংযম জৈনের সঙ্গে ধুমধাম করে বিয়ে হয়েছিল গৌড় সিটি সোসাইটির এক তরুণীর। বিয়ের সময় পাত্রপক্ষ দাবি করেছিল, যুবক সুপ্রতিষ্ঠিত এবং সুস্বাস্থ্যের অধিকারী। বিশেষ করে তার ঘন কালো চুলের প্রশংসা করা হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের কয়েকদিন পরই প্রকাশ্যে আসে আসল সত্য। স্ত্রী জানতে পারেন, তার স্বামী আদতে পুরোপুরি টেকো এবং তিনি একটি ‘ফেসবল হেয়ার প্যাচ’ বা উইগ ব্যবহার করেন।

কেবল চুল নয়, শিক্ষাতেও জালিয়াতি

নির্যাতিতার অভিযোগ, প্রতারণা কেবল চুলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বিয়ের আগে সংযম জৈনের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং বার্ষিক আয় নিয়ে যা যা দাবি করা হয়েছিল, তার সবই ভুয়া প্রমাণিত হয়। যখন এই মিথ্যে নিয়ে স্ত্রী প্রশ্ন করতে শুরু করেন, তখন থেকেই সংসারে বিবাদ চরমে পৌঁছায়। তরুণীর দাবি, যার ভিত্তিটাই মিথ্যের ওপর দাঁড়িয়ে, সেই সম্পর্কে থাকা আসাম্ভব।

ব্যক্তিগত ছবি দিয়ে ব্ল্যাকমেল ও মারধর

ঘটনাটি আরও ভয়াবহ রূপ নেয় যখন তরুণী জানতে পারেন যে, তার স্বামী তার ফোন থেকে বেশ কিছু ব্যক্তিগত এবং গোপনীয় ছবি হাতিয়ে নিয়েছেন। অভিযোগ, সেই অশ্লীল ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে নিজের স্ত্রীকেই ব্ল্যাকমেল করতে শুরু করেন সংযম। ভয়ের চোটে বেশ কয়েকবার স্বামীকে টাকা দিতে বাধ্য হন ওই তরুণী। টাকা দিতে অস্বীকার করলে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো বলে অভিযোগে জানানো হয়েছে।

আইনি পদক্ষেপ ও পুলিশের তদন্ত

নির্যাতিতা কেবল স্বামীর বিরুদ্ধেই নয়, বরং শ্বশুর ও শাশুড়ির বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগ এনেছেন। অবশেষে নিরুপায় হয়ে তিনি বিসরাখ কোতোয়ালি থানায় ন্যায়বিচারের আর্জি জানান। পুলিশ অভিযুক্ত স্বামী সংযম জৈন এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, মারধর এবং আইটি অ্যাক্টের বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করেছে। ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে পুলিশ ঘটনার গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

এই ঘটনা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল যে, দাম্পত্য জীবনে স্বচ্ছতা কতটা জরুরি। মিথ্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা সম্পর্ক যে কোনও সময় ধসে পড়তে পারে, এই ঘটনাই তার জ্বলন্ত প্রমাণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *