লেটেস্ট নিউজ

‘হানি ট্র্যাপ’: যুবকের গোপনাঙ্গে কোপ মেরে নৃশংস হত্যা, নেপথ্যে দুই বান্ধবী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

চেন্নাই: পরকীয়া আর লালসার টানাপোড়েনে শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারালেন ২২ বছর বয়সী এক যুবক। চেন্নাইয়ের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে পুলিশ এমন এক তথ্য উদ্ধার করেছে, যা শুনে রীতিমতো হাড়হিম হয়ে যাচ্ছে তদন্তকারীদের। জানা গেছে, দুই বান্ধবী মিলে কেবল ওই যুবককে খুনই করেনি, বরং ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে সিনেমার কায়দায় অজ্ঞান হওয়ার নাটকও ফেঁদেছিলেন প্রধান অভিযুক্ত।

একই সঙ্গে দুই বান্ধবীর সঙ্গে প্রেম

পুলিশ সূত্রে খবর, চেন্নাইয়ের ত্রিশুলাম আম্মান নগরের বাসিন্দা সেলভাকুমার পেশায় দিনমজুর ছিলেন। রীনা (২৪) নামে এক বিবাহিত মহিলার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। তবে রীনার অজান্তেই তাঁর প্রিয় বান্ধবী রাজিথার (২৫) সঙ্গেও সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন সেলভাকুমার। রীনা বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিবাদ করলে সেলভাকুমার সাফ জানিয়েছিলেন, “তোমরা দুজনেই আমার দুটি চোখের মতো।”

আড়ালে চলত ব্ল্যাকমেইল ও ‘হানি ট্র্যাপ’

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, রীনা ও রাজিথা আসলে একটি পেশাদার ‘হানি ট্র্যাপ’ গ্যাংয়ের সদস্য। তারা ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে যুবকদের ফাঁদে ফেলে নির্জনে নিয়ে যেত এবং পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায় করত। সেলভাকুমারকেও একইভাবে ফাঁদে ফেলা হয়েছিল। তবে এক সময় সেলভাকুমার তাদের আসল রূপ বুঝে ফেলেন এবং টাকা দিতে অস্বীকার করেন। উল্টে তিনিই তাদের জন্য বিপদ হয়ে দাঁড়াচ্ছিলেন বলে মনে করেছিল ওই দুই বান্ধবী।

পার্কের নির্জনে নৃশংস হামলা

পরিকল্পনা মাফিক গত বুধবার রাতে পল্লবরমের একটি পার্কে সেলভাকুমারকে ডেকে পাঠায় রীনা ও রাজিথা। সেখানে আগে থেকেই ওত পেতে ছিল তাদের আরও চার সহযোগী। সেলভাকুমার পৌঁছানো মাত্রই তাঁর ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে তারা। যুবকের মাথা, মুখ এবং যৌনাঙ্গে নৃশংসভাবে আঘাত করা হয়।

পুলিশের হাতে গ্রেফতার ৩

ঘটনার পর পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে রীনা নিজে অজ্ঞান হওয়ার ভান করে পড়ে থাকেন, যাতে মনে হয় কোনো ডাকাত দল তাঁদের ওপর হামলা করেছে। কিন্তু পুলিশের জেরার মুখে ভেঙে পড়ে রীনা ও রাজিথা। তারা খুনের কথা স্বীকার করেছে। এই ঘটনায় রীনা, রাজিথা এবং এক নাবালককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পলাতক আরও তিনজনের খোঁজে তল্লাশি চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *