লেটেস্ট নিউজ

বেওয়ারিশ কুকুর ইস্যু: খাবারদাতাদের জবাবদিহিতা নিয়ে কঠোর সুপ্রিম কোর্ট – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নয়াদিল্লি: রাস্তায় বেওয়ারিশ কুকুরদের খাওয়ানো ব্যক্তিদের দায়বদ্ধতা নিয়ে অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে বিচারপতি বিক্রম নাথ, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা এবং বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যারা রাস্তায় কুকুরদের খাবার দেন, তাদের দায়বদ্ধতা নিয়ে আদালতের মন্তব্য মোটেও ব্যঙ্গাত্মক ছিল না, বরং অত্যন্ত গুরুতর ছিল।

মানেকা গান্ধীর মন্তব্যে ক্ষুব্ধ আদালত

এদিনের শুনানিতে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা পশু অধিকার কর্মী মানেকা গান্ধীর বিতর্কিত মন্তব্যের বিষয়টি উঠে আসে। আদালতের নির্দেশের সমালোচনা করায় মানেকা গান্ধীর ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করে বেঞ্চ। বিচারপতি বিক্রম নাথ বলেন, “আপনার মক্কেল যা বলছেন তা আদালত অবমাননার শামিল। আমাদের উদারতা যে আমরা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছি না।” আদালত আরও প্রশ্ন তোলে, একজন অভিজ্ঞ মন্ত্রী এবং অধিকার কর্মী হওয়া সত্ত্বেও কুকুর সমস্যা সমাধানে বাজেট বরাদ্দ নিয়ে কেন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেননি মানেকা গান্ধী।

কুকুর সমস্যার স্থায়ী সমাধানের খোঁজে

মামলার শুনানিতে আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ এবং রাজু রামচন্দ্রন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি পেশ করেন:

  • বন্ধ্যাকরণ ও স্বচ্ছতা: প্রশান্ত ভূষণ জানান, মাত্র কয়েকটি শহরে নির্বীজন বা বন্ধ্যাকরণ প্রক্রিয়া সফল হয়েছে। এই ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।
  • এবিসি (ABC) নিয়ম: রাজু রামচন্দ্রন বলেন, অ্যানিমেল বার্থ কন্ট্রোল (ABC) নিয়ম সঠিকভাবে কার্যকর করাই সমাধানের পথ। স্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র তৈরির চেয়ে বিদ্যমান পরিকাঠামোর সঠিক প্রয়োগ জরুরি।
  • রাজ্যগুলোর অনীহা: আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে যে, জলাতঙ্ক নির্মূলে জাতীয় স্তরের নীতি (NAPRE) থাকা সত্ত্বেও ৩০টিরও বেশি রাজ্য নিজস্ব কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেনি।

পরবর্তী পদক্ষেপ

শুনানি চলাকালীন বিচারপতি সন্দীপ মেহতা প্রশ্ন করেন, কেন কুকুরদের জন্য কোনো নির্দিষ্ট শংসাপত্র বাধ্যতামূলক করা যাবে না। অন্যদিকে, অ্যামিকাস কিউরি গৌরব আগরওয়াল জানান, এখনো সাতটি রাজ্যের রিপোর্ট পাওয়া বাকি।

বেওয়ারিশ কুকুর ইস্যুতে আবেদনকারী ও এনজিও-দের পক্ষ থেকে যুক্তি পেশ শেষ হয়েছে। আগামী ২৮শে জানুয়ারি দুপুর ২টোয় পরবর্তী শুনানি হবে। সেদিন রাজ্যগুলো, অ্যামিকাস কিউরি এবং এনএইচআরসি-র বক্তব্য শুনবে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *