স্বদেশী ‘ভার্গবাস্ত্রের’ গর্জন: এক নিশানায় খতম হবে ৬৪টি ড্রোন, কাঁপছে পাকিস্তান! – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
প্রতিরক্ষা খাতে ভারত গড়ল এক ঐতিহাসিক বিশ্বরেকর্ড। শত্রুপক্ষের ড্রোনের ঝাঁক আকাশেই গুঁড়িয়ে দিতে ভারত নিয়ে এল সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি বিধ্বংসী অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম ‘ভার্গবাস্ত্র’। বিশ্বের তাবড় দেশগুলিকে চমকে দিয়ে ভারত এখন একমাত্র রাষ্ট্র, যারা একক মিসাইল সিস্টেম থেকে একসঙ্গে ৬৪টি মাইক্রো-মিসাইল নিক্ষেপ করতে সক্ষম।
মহারাষ্ট্রের নাগপুরের সোলার ডিফেন্স অ্যান্ড অ্যারোস্পেস লিমিটেড (SDAL) এই অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র তৈরি করেছে। ২০২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এই সাফল্যের কথা ঘোষণা করে একে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ অভিযানের এক অভাবনীয় মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
ভার্গবাস্ত্র: কেন এটি অপরাজেয়?
- বিস্ময়কর ক্ষমতা: যেখানে বিশ্বের আধুনিকতম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলি একবারে সর্বোচ্চ ৪টি মিসাইল ছুড়তে পারে, সেখানে ভার্গবাস্ত্র মাত্র ১০ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৬৪টি মাইক্রো-মিসাইল বা রকেট নিক্ষেপ করে আকাশ পরিষ্কার করে দিতে পারে।
- মাল্টি-লেয়ার সুরক্ষা: এই সিস্টেমটি দ্বি-স্তরীয় সুরক্ষা প্রদান করে। প্রথম ধাপে আনগাইডেড রকেটের মাধ্যমে ২০ মিটার পরিধিতে থাকা ড্রোন ধ্বংস করা হয় এবং দ্বিতীয় ধাপে নিখুঁত গাইডেড মাইক্রো-মিসাইলের সাহায্যে লক্ষ্যভেদ করা হয়।
- পাল্লা ও সেন্সর: এটি ৬ থেকে ১০ কিলোমিটার দূর থেকেই শত্রু ড্রোন শনাক্ত করতে পারে এবং ২.৫ কিলোমিটার সীমানায় আসামাত্রই সেগুলিকে ধুলোয় মিশিয়ে দেয়।
- সাশ্রয়ী প্রযুক্তি: রাশিয়ার S-400-এর মতো বিশালাকায় সিস্টেমের তুলনায় এর খরচ অনেক কম। সস্তা ড্রোনের আক্রমণ ঠেকাতে এটি অত্যন্ত সাশ্রয়ী ও কার্যকর সমাধান।
- যে কোনো প্রতিকূলতায় সক্ষম: থর মরুভূমির তীব্র দাবদাহ থেকে শুরু করে হিমালয়ের ৫০০০ মিটার উচ্চতার হাড়কাঁপানো শীত—সব পরিবেশেই এটি সমানভাবে কার্যকরী। এটি একটি ‘অল-টেরাইন’ যানে মাউন্ট করা থাকে, ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে একে দ্রুত স্থানান্তর করা সম্ভব।
কেন ভারতের জন্য এটি গেম-চেঞ্জার?
বর্তমানে সীমান্ত এলাকায় পাকিস্তান ও চিনের ড্রোন আনাগোনা ভারতীয় সেনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছোট ও সস্তা ড্রোনের জন্য বড় এবং দামি মিসাইল খরচ করা রণকৌশলগতভাবে লস। ভার্গবাস্ত্র সেই সমস্যার সমাধান করবে। এর ‘সালভো মোড’ (একসঙ্গে অসংখ্য মিসাইল ছোড়ার ক্ষমতা) ভারতের আকাশসীমাকে এক দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত করল।
ওড়িশার গোপালপুরে মে ২০২৫-এ সফল পরীক্ষার পর থেকেই এই সিস্টেমটি ভারতীয় বাহিনীর শক্তিবৃদ্ধির অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ড্রোন যুদ্ধে ভারতের এই আধিপত্য প্রতিবেশীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ বাড়াতে বাধ্য।

