লেটেস্ট নিউজ

ট্রেনের টয়লেট যেন ‘ওয়ো রুম’! ২ ঘণ্টা দরজা আটকে যুগলের কীর্তিতে হুলুস্থুল রেলে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রেলওয়ে পরিষেবা ও সহযাত্রীদের চূড়ান্ত ভোগান্তিতে ফেলে এক নজিরবিহীন কাণ্ড ঘটাল এক যুগল। ট্রেনের শৌচাগারকে রীতিমতো নিজেদের ব্যক্তিগত কক্ষ বা ‘ওয়ো রুম’ বানিয়ে ফেলার অভিযোগ উঠল তাদের বিরুদ্ধে। টানা দুই ঘণ্টা শৌচাগারের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে রাখার ঘটনায় রীতিমতো রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় ট্রেনের কামরা। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ভাইরাল।

যা ঘটেছিল সেই মুহূর্তে

ঘটনাটি ঠিক কী? প্রত্যক্ষদর্শী ও রেল সূত্রে জানা গেছে, চলন্ত ট্রেনের একটি শৌচাগারে ঢুকে পড়েন ওই যুবক ও যুবতী। এরপর দীর্ঘ দুই ঘণ্টা অতিক্রান্ত হলেও তারা সেখান থেকে বের হননি। শৌচাগার ব্যবহারের জন্য বাইরে অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা বারবার দরজায় ধাক্কা দিলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ মেলেনি। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর যাত্রীদের ধৈর্যচ্যুতি ঘটে এবং তারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তড়িঘড়ি খবর দেওয়া হয় রেল কর্মীদের।

অদ্ভুত সাফাই ও যুবতীর পালটা মেজাজ

রেল কর্মীদের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত দরজা খুলতে বাধ্য হয় ওই যুগল। বাইরে বের হতেই উত্তেজিত যাত্রীরা তাদের প্রশ্ন করতে শুরু করেন, “এটা কি কোনো থাকার হোটেল বা ওয়ো রুম যে এভাবে আটকে রেখেছেন?” পরিস্থিতি সামাল দিতে ওই যুবক প্রথমে দাবি করেন, যুবতীর ঋতুস্রাবজনিত সমস্যা ও অসহ্য পেটে ব্যথা হচ্ছিল, তাই তারা ভেতরে ছিলেন।

তবে ঘটনার মোড় ঘোরে যখন ওই যুবতী অত্যন্ত উদ্ধত ভঙ্গিতে পালটা যুক্তি দিতে শুরু করেন। তিনি সাফ জানান, “আমার শারীরিক কোনো সমস্যা হলে আমি কাকে সাথে নিয়ে ভেতরে ঢুকব, সেটা সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার। এটা আমার ইচ্ছা।” জনসমক্ষে এমন বেপরোয়া মন্তব্য শুনে হতবাক হয়ে যান উপস্থিত যাত্রী ও রেল কর্মীরা।

নেটপাড়ায় নিন্দার ঝড়

ভিডিওটি ভাইরাল হতেই নেটিজেনদের তোপের মুখে পড়েছেন ওই যুগল। সাধারণ মানুষের যাতায়াতের মাধ্যম এবং সরকারি সম্পত্তিকে এভাবে ব্যক্তিগত স্বার্থে অপব্যবহার করায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

  • এক নেটিজেন মন্তব্য করেছেন, “ব্যক্তিগত স্বাধীনতার নামে জনস্বার্থ বিঘ্নিত করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ট্রেনের টয়লেট সবার জন্য, ব্যক্তিগত রোমান্সের জায়গা নয়।”
  • অন্য একজন লিখেছেন, “নাগরিক চেতনার (Civic Sense) চরম অভাব। অন্যের অসুবিধার কথা চিন্তা না করে সরকারি সম্পত্তিকে নিজের সম্পত্তি মনে করা অপরাধের শামিল।”

রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনসমক্ষে অশালীন আচরণ এবং সহযাত্রীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর জন্য সংশ্লিষ্ট ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। সরকারি সম্পত্তির অপব্যবহার রুখতে এবং সাধারণ যাত্রীদের সচেতন করতে এই ঘটনাটি এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *