লেটেস্ট নিউজ

ভারতে খেলতে নারাজ বাংলাদেশ, আইসিসি-র চরম হুঁশিয়ারির মুখেও অবস্থানে অনড় বিসিবি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ভারতে আয়োজিত টি-২০ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল বা আইসিসি-র কড়া হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও নিজেদের অবস্থানে অনড় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও আপস করা হবে না। আইসিসি-র দেওয়া চরম সময়সীমা বা আল্টিমেটামের তোয়াক্কা না করেই বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল স্পষ্ট করেছেন যে, তাঁরা ভারত সফরের ব্যাপারে সরকারের ওপর কোনও চাপ সৃষ্টি করবেন না।

সংঘাতের মূলে নিরাপত্তা উদ্বেগ

ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে না চাওয়ার পেছনে শুরু থেকেই নিরাপত্তাহীনতাকে মূল কারণ হিসেবে তুলে ধরছে বাংলাদেশ। বিসিবি-র দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের মাটিতে তাঁদের ক্রিকেটাররা সুরক্ষিত নন। এর বিকল্প হিসেবে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিল বাংলাদেশ, যা আইসিসি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে। আইসিসি-র স্পষ্ট বার্তা— হয় ভারতে খেলতে হবে, না হলে বিশ্বকাপের আসর থেকে ছিটকে যেতে হবে বাংলাদেশকে। এমনকি বাংলাদেশের পরিবর্তে অন্য কোনও দলকে সুযোগ দেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়ে রেখেছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা।

আইসিসি বনাম বিসিবি: অচলাবস্থা তুঙ্গে

আইসিসি-র ভোটাভুটিতেও কার্যত কোণঠাসা হয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। ১৪-২ ভোটের ব্যবধানে বাংলাদেশের প্রস্তাব নাকচ হয়ে যাওয়ার পর আইসিসি ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল বিসিবি-কে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বাংলাদেশের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে বুলবুল সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “বিশ্বকাপ খেলার ইচ্ছে সবারই থাকে, কিন্তু আমরা আমাদের আগের অবস্থানেই অনড়। আমরা জানি ভারত আমাদের জন্য নিরাপদ নয়। তাই শ্রীলঙ্কায় খেলার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। বোর্ড সরকারের ওপর কোনও বাড়তি চাপ তৈরি করবে না।”

ক্রিকেটারদের মতামতে নজর

উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকে বসছে বোর্ড। সেখানে সরাসরি খেলোয়াড়দের কাছে জানতে চাওয়া হবে তাঁরা ভারতে গিয়ে খেলতে ইচ্ছুক কি না। ক্রীড়া উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনার পর বুলবুল আরও জানান, “আইসিসি আমাদের দাবিগুলো উড়িয়ে দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু সরকারকে জাতীয় নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সব দিক বিবেচনা করতে হয়। আমরা কেবল ক্রিকেটারদের আবেগের কথা ভেবে সিদ্ধান্ত নিতে পারি না।”

পাকিস্তানের উস্কানি ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা

এই টানাপড়েনের পেছনে ইসলামাবাদের উস্কানি রয়েছে বলেও বিভিন্ন মহলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। বাংলাদেশ যদি শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ বয়কট করে, তবে পাকিস্তানও সংহতি জানিয়ে প্রতিযোগিতার বিমুখ হতে পারে কি না, তা নিয়ে জল্পনা দানা বেঁধেছে। তবে বিসিবি-র বর্তমান কঠোর মনোভাব থেকে এটা স্পষ্ট যে, টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এখন সুতোর ওপর ঝুলছে। আইসিসি-র আল্টিমেটাম শেষে বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত কী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *