ব্ল্যাকবোর্ড ভাঙার ‘শাস্তি’, শিক্ষকের মারে জ্ঞান হারিয়ে হাসপাতালে স্কুলছুট নাবালক – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
কাটোয়া: স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চলাকালীন এক প্রাক্তন ছাত্রকে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠল পার্শ্বশিক্ষকের বিরুদ্ধে। ব্ল্যাকবোর্ড ভাঙার অপরাধে ওই নাবালককে এতটাই মারা হয় যে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। বর্তমানে সে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের পানুহাট রাজমহিষীদেবী স্কুলে।
ঘটনার বিবরণ
বুধবার স্কুলে বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠান ছিল। দুই বছর আগে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে স্কুল ছেড়ে দেওয়া কার্তিক রাজবংশী ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছিল। অভিযোগ, অনুষ্ঠান চলাকালীন কয়েকজন ছাত্র একটি ঘরে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং স্কুলের ব্ল্যাকবোর্ডটি ভেঙে ফেলে। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে এক পার্শ্বশিক্ষক কার্তিককে লক্ষ্য করে চড়, থাপ্পড় ও কিল-ঘুঁষি মারতে শুরু করেন। মারের চোটে সংজ্ঞাহীন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ওই নাবালক। সহপাঠীরাই তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
ক্ষুব্ধ পরিবার
ছেলের এই অবস্থায় কান্নায় ভেঙে পড়েছেন কার্তিকের বাবা-মা। বাবা তারক রাজবংশী জানান, অভাবের কারণে ছেলেকে পড়াতে পারেননি, কিন্তু একজন শিক্ষক এভাবে প্রাণে মারার চেষ্টা করবেন তা ভাবতেও পারছেন না। অভিযুক্ত শিক্ষকের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছে পরিবার।
প্রধানশিক্ষকের প্রতিক্রিয়া
স্কুলের প্রধান শিক্ষক তথা কাটোয়া পুরসভার চেয়ারম্যান কমলাকান্ত চক্রবর্তী জানান, ঘটনার সময় তিনি স্কুলে উপস্থিত ছিলেন না। তবে বিষয়টি তিনি শুনেছেন। ব্ল্যাকবোর্ড ভাঙার কারণেই এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক খবর। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

