লেটেস্ট নিউজ

প্রতি মাসে পান ২০,৫০০ টাকা: পোস্ট অফিসের এই স্কিমে বিনিয়োগে কেল্লাফতে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

অবসর জীবনের দিনগুলি দুশ্চিন্তামুক্ত এবং আর্থিকভাবে স্বাধীন রাখতে ভারতীয় ডাক বিভাগ নিয়ে এসেছে এক অনন্য বিনিয়োগ মাধ্যম। আপনি যদি আপনার কষ্টার্জিত সঞ্চয়কে এমন জায়গায় রাখতে চান যেখানে ঝুঁকির লেশমাত্র নেই এবং রিটার্ন পাওয়া যাবে ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিটের (FD) চেয়েও বেশি, তবে ‘সিনিয়ল সিটিজেন সেভিংস স্কিম’ (SCSS) আপনার জন্য সেরা বিকল্প। এই সরকারি প্রকল্পে বিনিয়োগ করে প্রবীণ নাগরিকরা প্রতি মাসে ২০,৫০০ টাকা পর্যন্ত নিশ্চিত আয়ের ব্যবস্থা করতে পারেন।

সরকারি সুরক্ষা ও আকর্ষণীয় সুদের হার

বাজারের অস্থিরতা নিয়ে এখানে ভাবার কিছু নেই, কারণ এই প্রকল্পের গ্যারান্টার স্বয়ং ভারত সরকার। বর্তমানে এই স্কিমে ৮.২ শতাংশ হারে সুদ দেওয়া হচ্ছে। এটি কেবল নিরাপদই নয়, বরং দেশের বড় বড় ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিটের তুলনায় অনেক বেশি লাভজনক। একবার টাকা জমা করলে পরবর্তী ৫ বছর পর্যন্ত আপনি একই হারে সুদ পাবেন, বাজারে সুদের হার কমলেও আপনার আয়ে কোনো প্রভাব পড়বে না।

বিনিয়োগের শর্তাবলী ও সুযোগ-সুবিধা

  • বয়সসীমা: সাধারণত ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সের নাগরিকরা এই অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। তবে যারা ভিআরএস (VRS) নিয়েছেন তারা ৫৫ বছর এবং প্রতিরক্ষা বিভাগ থেকে অবসরপ্রাপ্তরা ৫০ বছর বয়স থেকেই বিনিয়োগ শুরু করতে পারেন।
  • বিনিয়োগের পরিমাণ: ন্যূনতম ১,০০০ টাকা দিয়ে এই স্কিম শুরু করা যায়। বর্তমানে একজনে সর্বোচ্চ ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করার অনুমতি রয়েছে।
  • কর ছাড়: আয়কর আইনের ৮০সি (80C) ধারা অনুযায়ী, এই প্রকল্পে ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে কর ছাড়ের সুবিধা পাওয়া যায়।

আয়ের হিসাব: ৩০ লক্ষ জমায় ‘মাসিক বেতন’

এই স্কিমের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর ত্রৈমাসিক পেমেন্ট সিস্টেম। আপনি যদি সর্বোচ্চ ৩০ লক্ষ টাকা এই স্কিমে বিনিয়োগ করেন, তবে আয়ের অঙ্কটি দাঁড়াবে ঠিক এইরকম:

বিবরণ পরিমাণ (টাকায়)
মোট বিনিয়োগ ৩০,০০,০০০ টাকা
বার্ষিক সুদ (৮.২%) ২,৪৬,০০০ টাকা
প্রতি তিন মাসের আয় ৬১,৫০০ টাকা
গড় মাসিক আয় ২০,৫০০ টাকা

অর্থাৎ, আপনার মূল ৩০ লক্ষ টাকা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকছে এবং সেই আমানতের ওপর ভিত্তি করে আপনি মাসে গড়ে ২০,৫০০ টাকা করে হাতে পাচ্ছেন, যা একজন প্রবীণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ চালানোর জন্য একটি শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তি।

মেয়াদ ও টাকা তোলার নিয়ম

এই প্রকল্পের মেয়াদ সাধারণত ৫ বছর। তবে বিনিয়োগকারী চাইলে মেয়াদের শেষে আরও ৩ বছরের জন্য এই স্কিম বৃদ্ধি করতে পারেন। জরুরি প্রয়োজনে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে টাকা তোলার সুবিধা থাকলেও সে ক্ষেত্রে কিছু জরিমানা বা পেনাল্টি দিতে হয়। দুর্ভাগ্যবশত অ্যাকাউন্টধারীর মৃত্যু হলে জমানো সমস্ত টাকা নমিনি বা মনোনীত উত্তরাধিকারীকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। নিরাপদ ভবিষ্যৎ ও নিশ্চিত আয়ের জন্য পোস্ট অফিসের এই স্কিম বর্তমানে ভারতের প্রবীণদের কাছে অন্যতম জনপ্রিয় আস্থার জায়গা হয়ে উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *