বিদায় নিচ্ছে ঐতিহাসিক পাম্বান সেতু: ১১১ বছরের রেল ইতিহাসের অবসান – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
রামেশ্বরম: ভারতের প্রকৌশলবিদ্যার এক অনন্য নিদর্শন এবং শতবর্ষের সাক্ষী ঐতিহাসিক পাম্বান রেল সেতু এবার চিরতরে স্মৃতি হতে চলেছে। তামিলনাড়ুর রামনাথপুরম জেলার মণ্ডপম মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে রামেশ্বরম দ্বীপকে সংযুক্তকারী এই সেতুটি সরিয়ে ফেলার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। ১৯১৪ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে নির্মিত এই সেতুটি ছিল ভারতের প্রথম সমুদ্র রেল সেতু, যা দীর্ঘ ১০৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিরবিচ্ছিন্ন পরিষেবা দিয়ে এসেছে।
সমুদ্রের নোনা বাতাসের কারণে সেতুর লোহার স্তম্ভগুলোতে প্রবল মরচে ধরে কাঠামোগতভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিল। যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাস থেকেই এই সেতু দিয়ে ট্রেন চলাচল স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই সেতুর প্রধান আকর্ষণ ছিল এর মাঝখানের ‘শেরজার স্প্যান’ (Scherzer Span), যা বড় জাহাজ চলাচলের জন্য দুই পাশে ডানা মেলে খুলে যেত। সম্প্রতি শেষবারের মতো এই ২২৫ ফুটের অংশটি খোলার চেষ্টা করা হলেও মরচে ধরার কারণে তা মাত্র ১৫ ডিগ্রির বেশি নড়াচড়া করা সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে এই পুরনো সেতুর সমান্তরালে আধুনিক প্রযুক্তিতে নতুন পাম্বান সেতু নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে। তাই পুরনো কাঠামোটি সম্পূর্ণ অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড (RVNL) এই অপসারণের দায়িত্ব ঠিকাদার সংস্থাগুলোকে হস্তান্তর করেছে। ভাঙার কাজ চলাকালীন নিরাপত্তার খাতিরে আগামী ৩১ মে পর্যন্ত এই সমুদ্রপথে সমস্ত ধরনের নৌকা ও জাহাজ চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দা এবং পর্যটকদের দাবি, ১১১ বছরের এই ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের কিছু অংশ যেন ভেঙে না ফেলে মিউজিয়ামে সংরক্ষণ করা হয়, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ভারতের এই গৌরবোজ্জ্বল ইঞ্জিনিয়ারিং ইতিহাসের সাক্ষী থাকতে পারে।

