লেটেস্ট নিউজ

৫ টাকার ফিটকারিতেই লুকিয়ে রূপকথার ম্যাজিক! জানুন ৭টি গোপন টোটকা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বদলানো জীবনযাত্রায় আমরা এখন নামী দামী কসমেটিকস আর বিউটি পার্লারের ওপর বেশি নির্ভরশীল। কিন্তু আমাদের রান্নাঘরে বা ঠাকুরঘরে পড়ে থাকা মাত্র ৫ টাকার এক টুকরো ফিটকারি যে আপনার ত্বকের জেল্লা ফেরাতে এবং একাধিক শারীরিক সমস্যায় ওষুধের মতো কাজ করতে পারে, তা হয়তো অনেকেরই অজানা। আয়ুর্বেদ শাস্ত্র থেকে শুরু করে ঠাকুমা-দিদিমাদের আমল— ফিটকারির কদর ছিল সর্বত্র। আজ ডেইলিহান্টের পাঠকদের জন্য রইল ফিটকারির ৭টি ম্যাজিক গুণ, যা জানলে আপনি আজই এটি ব্যবহার শুরু করবেন।

১. ব্রণের যম এই ফিটকারি

ত্বকে অতিরিক্ত তেল এবং ব্যাকটেরিয়ার কারণেই ব্রণ বা পিম্পল দেখা দেয়। ফিটকারিতে থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান ত্বকের গভীর থেকে ময়লা পরিষ্কার করে এবং ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে।

ব্যবহার: ফিটকারি সামান্য জলে ভিজিয়ে নিয়ে আলতো করে ব্রণের ওপর ঘষুন। ১-২ মিনিট পর জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২-৩ বার এটি করলে দ্রুত ফল পাবেন।

২. রক্তপাত বন্ধে তাৎক্ষণিক সমাধান

দাড়ি কাটতে গিয়ে গাল কেটে যাওয়া বা রান্নাঘরে কাজ করার সময় ছোটখাটো চোট লাগা— রক্ত বন্ধ করতে ফিটকারির জুড়ি নেই। এর অ্যান্টি-সেপটিক গুণ ইনফেকশন রুখতে সাহায্য করে। সামান্য ফিটকারি ঘষলেই দ্রুত রক্ত জমাট বেঁধে যায়।

৩. প্রাকৃতিকভাবে ঘামের দুর্গন্ধ দূর করতে

বাজারচলতি ডিওডোরেন্টে রাসায়নিক থাকে যা ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। ফিটকারি হলো প্রাকৃতিক ডিওডোরেন্ট। এটি ঘামের দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে। স্নানের পর বগলে সামান্য জল মাখানো ফিটকারি ব্যবহার করুন, সারাদিন ফ্রেশ থাকবেন।

৪. মুখের ঘায়ের অব্যর্থ ওষুধ

অনেকেরই মুখে ঘন ঘন আলসার বা ঘা হয়। ফিটকারি মেশানো জল দিয়ে কুলকুচি করলে মুখের ভেতরের প্রদাহ কমে এবং ঘা দ্রুত শুকিয়ে যায়। এক গ্লাস ইষদুষ্ণ জলে সামান্য ফিটকারি গুঁড়ো মিশিয়ে দিনে একবার গার্গল করুন।

৫. জল পরিশোধনে প্রাচীন পদ্ধতি

অপরিষ্কার জল পরিষ্কার করতে যুগের পর যুগ ধরে ফিটকারি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। কাদাটে জলে সামান্য ফিটকারি ফেললে সব নোংরা থিতিয়ে নিচে পড়ে যায় এবং জল স্বচ্ছ হয়ে ওঠে। তবে জীবাণুমুক্ত করতে জল ফুটিয়ে নেওয়াও জরুরি।

৬. বলিরেখা দূর করে ত্বক টানটান রাখতে

বয়সের ছাপ বা কুঁচকে যাওয়া ত্বক নিয়ে চিন্তিত? ফিটকারি প্রাকৃতিক অ্যাস্ট্রিঞ্জেন্ট হিসেবে কাজ করে। এটি ত্বকের লোমকূপ সঙ্কুচিত করে মুখকে টানটান ও উজ্জ্বল রাখে। গোলাপ জলের সঙ্গে ফিটকারি মিশিয়ে টোনার হিসেবে ব্যবহার করলে ত্বকে আসবে তারুণ্যের জেল্লা।

৭. পায়ের দুর্গন্ধ ও ফাঙ্গাল ইনফেকশন মুক্তি

যাঁদের সারা বছর মোজা পরতে হয়, তাঁদের পায়ে দুর্গন্ধ বা ফাঙ্গাল ইনফেকশন হওয়া স্বাভাবিক। হালকা গরম জলে ফিটকারি গুঁড়ো মিশিয়ে তাতে ১০-১৫ মিনিট পা ডুবিয়ে রাখুন। এটি পায়ের চুলকানি কমায় এবং দুর্গন্ধ দূর করে পা রাখে সুস্থ।

সতর্কতা: যাঁদের ত্বক অতিরিক্ত সংবেদনশীল, তাঁরা ব্যবহারের আগে সামান্য একটু অংশে পরীক্ষা (প্যাচ টেস্ট) করে দেখে নেবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *