লেটেস্ট নিউজ

রাজস্থানে ১০ হাজার কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার, প্রজাতন্ত্র দিবসের মুখে নাশকতার ছক? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নাগৌর, ২৬ জানুয়ারি: প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে রাজস্থানে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাজ্যের নাগৌর জেলা থেকে প্রায় ১০ হাজার কেজি বিস্ফোরক বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ ও জেলা বিশেষ দল (DST)। উৎসবের আবহে এতো বিশাল পরিমাণ মারণাস্ত্র উদ্ধারের পর প্রশ্ন উঠছে, তবে কি সীমান্তের ওপার থেকে বা দেশের অভ্যন্তরে কোনো বড়সড় নাশকতার ছক কষা হয়েছিল?

ফার্মহাউসে বিস্ফোরকের পাহাড়: কী কী উদ্ধার হলো?

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে থাওলা থানার অন্তর্গত হারসৌর গ্রামের একটি নির্জন ফার্মহাউসে হানা দেয় পুলিশ। জনবসতি থেকে দূরে হওয়ায় এই এলাকাটিকে নিরাপদ আস্তানা হিসেবে বেছে নিয়েছিল পাচারকারীরা। তল্লাশিতে গোয়েন্দাদের চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায়। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর তালিকায় রয়েছে:

  • অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট: মোট ১৮৭টি বস্তা, যার ওজন প্রায় ৯,৫৫০ কেজি।
  • ডিটোরনেটর: বিপুল পরিমাণ ডিটোরনেটর এবং তার ভর্তি একাধিক কার্টুন।
  • বিস্ফোরক পদার্থ: লাল ও নীল রঙের বিশেষ তার এবং অতি শক্তিশালী APSOD বিস্ফোরক।

তদন্তের কেন্দ্রে কুখ্যাত সুলেমান

এই চক্রের মূল পান্ডা হিসেবে উঠে এসেছে সুলেমান নামে এক ব্যক্তির নাম। তদন্তে জানা গেছে, সুলেমানের অপরাধের ইতিহাস দীর্ঘ। তার বিরুদ্ধে আগেও তিনটি অপরাধমূলক মামলা ছিল, যার মধ্যে দুটির বিচার এখনও চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ১৮৮৪ সালের এক্সপ্লোসিভ অ্যাক্ট, ১৯০৮ সালের এক্সপ্লোসিভ সাবস্টেন্স অ্যাক্ট এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক কঠোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

অবৈধ খনন নাকি নাশকতার ইঙ্গিত?

জেলার পুলিশ সুপার মৃদুল কাচ্চওয়া জানিয়েছেন, ধৃতকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে যে এই বিস্ফোরকগুলো মূলত অবৈধ পাথর খনিতে ব্যবহারের জন্য মজুত করা হয়েছিল। তবে তদন্তকারীরা এখনই নাশকতার তত্ত্ব উড়িয়ে দিচ্ছেন না। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকের বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা। প্রজাতন্ত্র দিবসের মতো স্পর্শকাতর দিনে এতো বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক মজুত রাখার নেপথ্যে কোনো জঙ্গি সংগঠন বা রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাও।

রাজস্থান-পাকিস্তান সীমান্ত দিয়ে এই বিস্ফোরক পাচার হয়েছে কি না, তা জানতে তল্লাশি আরও জোরদার করা হয়েছে। আপাতত হারসৌর গ্রাম ও সংলগ্ন এলাকা পুলিশি ঘেরাটোপে মুড়ে ফেলা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *