ভারী ওজন তোলা কি হৃদযন্ত্রের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ? জিমে যাওয়ার আগে যা জানা জরুরি – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
পেশিবহুল শরীর গড়তে বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ভারী ওজন তোলার (Weightlifting) প্রবণতা বাড়ছে। কিন্তু এই শরীরচর্চা আপনার হৃদযন্ত্রের ওপর ঠিক কী প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন রয়েছে। পেশি গঠনের পাশাপাশি নিয়মিত ও পরিমিত ওয়েটলিফটিং মেটাবলিজম বাড়াতে এবং ইনসুলিন সেনসিটিভিটি উন্নত করতে সাহায্য করে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক নিয়ম না মানলে এটি উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করতে পারে।
ভারত্তোলনের সুফল
সঠিক পদ্ধতিতে ওজন তোলা শুধু পেশি নয়, হৃদযন্ত্রকেও শক্তিশালী করে। গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে ২–৩ দিন হালকা থেকে মাঝারি ওজনের স্ট্রেন্থ ট্রেনিং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। এটি ক্ষতিকর কোলেস্টেরল (LDL) কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরল (HDL) বাড়াতে সাহায্য করে, যা দীর্ঘমেয়াদে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়। এছাড়া বয়সজনিত পেশিক্ষয় রোধেও এটি অত্যন্ত কার্যকর।
ঝুঁকি কোথায়?
অতিরিক্ত ওজন তুলতে গিয়ে অনেকেই ভুলবশত শ্বাস আটকে রাখেন, যা রক্তচাপ হঠাৎ বাড়িয়ে দিতে পারে। এটি উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য মারাত্মক বিপজ্জনক হতে পারে। অতিরিক্ত পরিশ্রম বা ওভারট্রেনিংয়ের ফলে বুক ধড়ফড় করা, মাথা ঘোরা বা তীব্র শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এটি হার্ট অ্যাটাকের কারণও হয়ে দাঁড়ায়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা স্থূলতার মতো সমস্যা রয়েছে অথবা বয়স ৪০-এর বেশি, তাঁদের জন্য ভারী ওজন তোলার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাধ্যতামূলক।
সুস্থ থাকতে যা করবেন:
- শুরুতেই খুব ভারী ওজন না নিয়ে হালকা ওজন দিয়ে ব্যায়াম শুরু করুন।
- ব্যায়াম করার সময় শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখুন।
- শুধুমাত্র ওয়েটলিফটিং না করে কার্ডিও এবং স্ট্রেন্থ ট্রেনিংয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখুন।
- সব সময় প্রশিক্ষিত ট্রেইনারের তত্ত্বাবধানে ব্যায়াম করুন।
মনে রাখবেন, শরীরচর্চা সুস্থ থাকার জন্য, অসুস্থ হওয়ার জন্য নয়। তাই নিজের শারীরিক সক্ষমতা বুঝে তবেই জিমের ওজন নির্বাচন করুন।

