রাতে দেরি করে ডিনার করলে কী হয়? কখন খাওয়া উচিত রাতের খাবার? – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
স্বাস্থ্যের প্রশ্নে আমরা সাধারণত খাবারের গুণমান এবং পরিমাণের ওপরই বেশি নজর দিই। কিন্তু ‘কী’ খাচ্ছি তার চেয়েও ‘কখন’ খাচ্ছি সেটি সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন ডাক্তার সৌরভ শেঠি।
রাতে দেরি করে খাওয়ার ফলে শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় যে ব্যাঘাত ঘটে এবং দ্রুত ডিনার করার যে উপকারিতা রয়েছে, তা নিচে আলোচনা করা হলো:
দেরি করে খেলে কী সমস্যা হয়?
রাতে অনেক দেরি করে খেলে শরীর যখন ঘুমের প্রস্তুতি নেয়, তখন সেটিকে পরিপাক বা হজমের কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। এর ফলে শরীরের স্বাভাবিক ‘ডিটক্সিফিকেশন’ বা বিষমুক্তকরণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। রাতে ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর পরেও সকালে উঠে ক্লান্তি অনুভব করা বা পেট ফাঁপার মতো সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ হলো দেরিতে খাবার খাওয়া। সূর্যাস্তের পর শরীরে ‘মেলাটোনিন’ হরমোনের মাত্রা বাড়ে এবং ‘ইনসুলিন’ উৎপাদন কমে যায়। এই সময়ে খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং শরীরে চর্বি জমতে শুরু করে।
দ্রুত ডিনার করার সুফল:
রাত ৭টার মধ্যে রাতের খাবার শেষ করতে পারলে শরীরে অভাবনীয় পরিবর্তন আসে:
- রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ: ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে দেরি করে খাবার খেলে শর্করার মাত্রা ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। দ্রুত খেয়ে নিলে ইনসুলিনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়।
- লিভারের স্বাস্থ্য: রাতে শরীর যখন বিশ্রামে থাকে, তখন লিভার বা যকৃৎ নিজেকে পরিষ্কার বা টক্সিনমুক্ত করার প্রক্রিয়াটি সহজে সম্পন্ন করতে পারে।
- গভীর ঘুম: খাওয়ার পর ঘুমের আগে পর্যাপ্ত সময় থাকলে পরিপাক প্রক্রিয়া শেষ হয়, ফলে শান্তিতে গভীর ঘুম আসে।
- ওজন কমানো: গবেষণায় দেখা গেছে, একই পরিমাণ ক্যালোরি গ্রহণ করলেও যারা দেরি করে খান তাদের তুলনায় যারা দ্রুত ডিনার করেন তারা সহজে ওজন কমাতে পারেন।
সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গেই শরীরের হজম শক্তি কিছুটা কমে যায়। প্রকৃতির এই স্বাভাবিক নিয়ম বা ‘সার্কাডিয়ান রিদম’ মেনে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনলে দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থতা থেকে দূরে থাকা সম্ভব।

