ভারতের সঙ্গে চুক্তি.. ভেস্তে গেল কার জন্য? “ট্রাম্প সহ..” বিস্ফোরক হোয়াইট হাউস – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ওয়াশিংটন: ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি (India-US trade deal) গত কয়েক মাস ধরে ‘এই সম্পন্ন হবে, এই হবে’ বলে শোনা গেলেও, কিছু বিশেষ কারণে তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।
তবে এই চুক্তি না হওয়ার আসল কারণ কী? জট ঠিক কোথায় পাকিয়েছিল? এই বিষয়ে সম্প্রতি কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। গত কয়েক বছর ধরে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে সুসম্পর্ক থাকলেও, ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর গত এক বছরে তা মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়েছে। ভারতের ওপর ট্রাম্প ৫০ শতাংশ ট্যারিফ (শুল্ক) আরোপ করায় দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তা সত্ত্বেও আশা করা হয়েছিল যে, দ্রুতই একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।
চরম বিলম্ব.. ফাঁস হওয়া অডিও
বিভিন্ন কারণে এই চুক্তি পিছিয়ে যাচ্ছিল। এরই মধ্যে ট্রাম্পের নিজের দল রিপাবলিকান পার্টির নেতা টেড ক্রুজের একটি অডিও ক্লিপ ফাঁস হওয়ায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। ক্রুজ সমালোচনা করে বলেছেন যে, ট্রাম্পের প্রশাসনে বড় ধরনের ফাটল রয়েছে। ওই অডিওতে তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্স এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করেছেন। ট্রাম্পের অনুসৃত ‘ট্যারিফ রাজনীতি’র কঠোর বিরোধিতা করেছেন তিনি।
টেড ক্রুজের অভিযোগ, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তিতে বাধা দিয়েছেন মূলত ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স এবং হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা পিটার নাভারো। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে খোদ ট্রাম্পও এই চুক্তি আটকে যাওয়ার পেছনে দায়ী ছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।
বিতর্কিত অডিওর প্রেক্ষাপট
এটি ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে একটি তহবিল সংগ্রহ (Fundraising) অনুষ্ঠানে ক্রুজের দেওয়া বক্তব্যের অডিও। প্রায় ১০ মিনিটের এই অডিওটি রিপাবলিকান শিবিরের নেতারাই ফাঁস করেছেন বলে জানা গেছে। এই কথোপকথনে ক্রুজ নিজেকে মুক্ত বাণিজ্যের সমর্থক হিসেবে তুলে ধরেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নিজেকে একজন শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা থেকেই তিনি এই মন্তব্য করেছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতির সমালোচনা করে ক্রুজ বলেন, এই অতিরিক্ত কর আরোপের ফলে মার্কিন অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ফের ইমপিচমেন্ট বা অভিশংসন প্রস্তাব আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ২০২৫ সালের এপ্রিলে ট্রাম্প যখন নতুন কর ঘোষণা করেন, তখন ক্রুজ এবং আরও কয়েকজন এমপি মিলে সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জন্য প্রেসিডেন্টকে অনুরোধ করেছিলেন।
কর বিতর্ক.. মাঝরাতের সেই ফোন কল
ক্রুজ জানান, সেই ফোন কলটি মাঝরাত পর্যন্ত চলেছিল, কিন্তু তারা ট্রাম্পকে বোঝাতে সক্ষম হননি। সেই সময় ট্রাম্প অত্যন্ত রাগান্বিত ছিলেন এবং তাঁদের ওপর চিৎকার করে গালিগালাজও করেন। ক্রুজ ওই অডিওতে দাবি করেছেন যে, তিনি সতর্ক করেছিলেন—এই করের ফলে পণ্যের দাম বাড়বে, যা ২০২৬ সালের মিড-টার্ম নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ হতে পারে।
ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি মেনে নেওয়ার জন্য হোয়াইট হাউসের ওপর বিভিন্ন মহল থেকে চাপ ছিল বলে দাতাদের জানান ক্রুজ। এত চাপের পরেও কেন চুক্তিটি সম্পন্ন হচ্ছে না—এমন প্রশ্নের উত্তরে ক্রুজ সরাসরি হোয়াইট হাউসের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পিটার নাভারো, জে.ডি. ভ্যান্স এবং ট্রাম্পের হঠকারী সিদ্ধান্তকেই দায়ী করেন।

