লেটেস্ট নিউজ

রেশন কার্ডে জালিয়াতি রুখতে কড়া দাওয়াই, শতায়ু গ্রাহকদের বাড়িতে হানা দিচ্ছে খাদ্য দপ্তর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রাজ্যের রেশন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিল খাদ্য দপ্তর। ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী রেশন গ্রাহকরা আদৌ জীবিত আছেন কি না, তা যাচাই করতে এবার সরাসরি তাঁদের বাড়িতে পৌঁছে যাবেন আধিকারিকরা। সাম্প্রতিক এক পর্যালোচনা বৈঠকে উঠে এসেছে যে, বহু ক্ষেত্রে গ্রাহকের মৃত্যু হলেও কার্ড জমা দেওয়া হয়নি, ফলে সেই কার্ড ব্যবহার করে অসাধু উপায়ে খাদ্যশস্য তোলা হচ্ছে।

তদন্তের মূল লক্ষ্যসমূহ:

  • শতায়ু গ্রাহক যাচাই: নিয়ম অনুযায়ী মৃত্যুর পর ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যুর আগে রেশন কার্ড জমা দেওয়ার কথা থাকলেও, অনেক ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না। তাই ডিজিটাল ডাটাবেসে সক্রিয় থাকা ১০০ ঊর্ধ্ব গ্রাহকদের অস্তিত্ব সরেজমিনে খতিয়ে দেখে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে জেলা দপ্তরগুলিকে।
  • অপ্রাপ্তবয়স্কদের পরিবার: এমন কিছু পরিবারের হদিস মিলেছে যেখানে সমস্ত সদস্যের বয়সই ১৮ বছরের কম। একটি পরিবারে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য না থাকাটা অস্বাভাবিক বলে মনে করছে দপ্তর। এই রহস্যভেদেও চলবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তদন্ত।
  • অন্ত্যোদয় কার্ডে কারচুপি: রাজ্যে প্রায় লক্ষাধিক এমন অন্ত্যোদয় পরিবার রয়েছে যেখানে সদস্য মাত্র একজন। এই কার্ডে মাসে মাথাপিছু ৩৫ কেজি চাল-গম পাওয়া যায়, যা সাধারণ কার্ডের তুলনায় অনেক বেশি। আধিকারিকদের সন্দেহ, বড় পরিবারের সদস্যরা বেশি রেশন পেতে নিজেদের আলাদা ‘সিঙ্গল মেম্বার’ পরিবার হিসেবে নথিভুক্ত করেছেন। এদের চিহ্নিত করে মূল পরিবারের সঙ্গে যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।

আসছে নতুন নিয়ম?

সূত্রের খবর, অন্ত্যোদয় কার্ডের বরাদ্দ পরিবার পিছুর বদলে মাথাপিছু করার বিষয়টি নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছে কেন্দ্র। আসন্ন কেন্দ্রীয় বাজেটে এই সংক্রান্ত ঘোষণা আসতে পারে। সেক্ষেত্রে অন্ত্যোদয় গ্রাহকরা মাথাপিছু সাড়ে ৭ কেজি করে রেশন পেতে পারেন। জালিয়াতি রুখে প্রকৃত অভাবী মানুষের কাছে খাদ্য পৌঁছে দেওয়াই এখন খাদ্য দপ্তরের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *