বিয়ের ৬ ঘণ্টার মধ্যেই মা হলেন কনে! নবজাতককে সাদরে গ্রহণ করে নজির গড়লেন যুবক – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
রামপুর: উত্তরপ্রদেশের রামপুর জেলায় একটি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও বিরল ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে, যা বর্তমানে পুরো এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। বিয়ের মাত্র ৬ ঘণ্টা পরেই এক নবজাতক কন্যার আগমনে খুশির হাওয়া বইছে দম্পতির ঘরে। তবে এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা সত্যটি জানাজানি হওয়ার পর বরের প্রতিক্রিয়াই এখন সবথেকে বেশি চর্চিত হচ্ছে।
বিয়ের রাতেই প্রসব যন্ত্রণা
অজিম নগর থানা এলাকার একটি গ্রামে শনিবার ধুমধাম করে এক তরুণ ও তরুণীর বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিদায় অনুষ্ঠান শেষে কনে যখন শ্বশুরবাড়ি পৌঁছান, তখন রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। কনে যন্ত্রণায় কাতর হয়ে স্বামীকে জানান যে তিনি আর সহ্য করতে পারছেন না। পরিবারের সদস্যরা ভেবেছিলেন বিয়ের ধকল ও ক্লান্তির কারণে হয়তো এমনটা হচ্ছে। তড়িঘড়ি এক মহিলা চিকিৎসককে বাড়িতে ডাকা হয়। পরীক্ষা করার পর চিকিৎসক যা জানান, তাতে উপস্থিত সকলের চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায়। চিকিৎসক জানান, কনে অন্তঃসত্ত্বা এবং এটি আসলে প্রসব যন্ত্রণা।
নেপথ্যে দীর্ঘদিনের প্রেম কাহিনী
পুরো বিষয়টি আসলে একটি গভীর প্রেমের সম্পর্কের ফসল। বর ও কনে একই গ্রামের বাসিন্দা এবং দীর্ঘ সময় ধরে একে অপরকে ভালোবাসতেন। প্রেমের সম্পর্কের থাকাকালীনই তরুণী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। যেহেতু তাঁরা দুজনেই একে অপরকে জীবনসঙ্গী হিসেবে চেয়েছিলেন, তাই পরিবারের সম্মতিতে তাঁদের বিয়ে দেওয়া হয়। তবে শ্বশুরবাড়ির অন্যান্য সদস্যরা এই গর্ভাবস্থার কথা আগে জানতেন না।
মেয়ের আগমনে খুশি বাবা
সাধারণত এই ধরনের ঘটনায় পরিবারে অশান্তি বা বিবাদের সৃষ্টি হয়, কিন্তু এক্ষেত্রে ছবিটা ছিল একেবারেই ভিন্ন। বিয়ের মাত্র ৬ ঘণ্টা পরেই যখন কনে একটি সুস্থ কন্যাসন্তানের জন্ম দেন, তখন রেগে যাওয়ার বদলে খুশিতে মেতে ওঠেন বর। তিনি তাঁর স্ত্রী ও নবজাতক কন্যাকে পূর্ণ মর্যাদায় গ্রহণ করেন। অজিম নগর থানার পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় কোনো পক্ষ থেকেই কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। এটি পরিবারের নিজস্ব বিষয় এবং উভয় পক্ষই বর্তমানে খুশি।
এলাকায় প্রশংসিত বরের উদারতা
এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই বরের বিশাল হৃদয় ও ভালোবাসার প্রতি তাঁর সততার প্রশংসা করছেন সকলে। লোকলজ্জার ভয় উপেক্ষা করে নিজের সন্তান ও স্ত্রীকে যে সম্মান তিনি দিয়েছেন, তা এখন জেলার আলোচনার মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। শান্তি বজায় রাখতে পুলিশও পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।

