বাংলায় AIMIM-CPI(M)-এর সঙ্গে জোট! বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশল জানালেন হুমায়ুন কবীর – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের শিলান্যাস করে শোরগোল ফেলে দেওয়া বিধায়ক হুমায়ুন কবীর এবার বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিতে কোমর বেঁধে নেমেছেন। তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কৃত ভরতপুরের এই বিধায়ক নির্বাচনের আগে ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ গঠন করেছেন এবং তৃণমূল বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে জোটের আলোচনা শুরু করেছেন।
নির্বাচনের আগে তৃণমূল বিরোধী দলগুলোকে জোটের বার্তা দিচ্ছেন হুমায়ুন কবীর। তিনি আগেই ঘোষণা করেছেন যে ৩০ তারিখ পর্যন্ত তাঁর দরজা সবার জন্য খোলা রয়েছে— সে বাম, কংগ্রেস, ISF হোক বা AIMIM।
তবে এরই মধ্যে মালদার চারটি জায়গায় জনতা উন্নয়ন পার্টির কার্যালয় উদ্বোধন করেছেন হুমায়ুন। দলটির চেয়ারম্যান স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের কোনো সম্ভাবনা নেই, তবে আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল AIMIM এবং সিপিআইএম-এর সঙ্গে কথাবার্তা চলছে।
AIMIM ও CPI(M)-এর সঙ্গে জোট প্রসঙ্গে
হুমায়ুন কবীরের দাবি, জোট না হলেও বিশেষ কোনো সমস্যা নেই। সেক্ষেত্রে তাঁর দল একাই লড়াই করতে প্রস্তুত। তিনি জানান, মালদার ইংলিশ বাজার বাদে বাকি প্রায় সব আসনেই তৃণমূলের সঙ্গে তাঁদের সরাসরি লড়াই হবে। ইংলিশ বাজারে লড়াই হবে বিজেপির বিরুদ্ধে।
কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, গনি খান চৌধুরীর পরিবার ভোট পেলেও মালদায় কংগ্রেস কার্যত বিলুপ্ত। মৌসম বেনজির নূর উত্তর মালদায় হেরে যাওয়ার পর এখন কংগ্রেসে ফিরেছেন। অন্যদিকে, দক্ষিণ মালদায় ঈশা খান চৌধুরী জিতলেও সেই জয়ে মুর্শিদাবাদ জেলার শামসেরগঞ্জ ও ধুলিয়ানের মানুষের অবদান বড় ছিল বলে হুমায়ুন দাবি করেন।
মমতার বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছেন হুমায়ুন
হুমায়ুন যাই বলুন না কেন, আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীর কথায় স্পষ্ট যে তিনি বাম-কংগ্রেস জোটের পক্ষেই সওয়াল করছেন। বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু জানিয়েছেন আলোচনা চলছে, আবার মহম্মদ সেলিমের মতে কংগ্রেসকে আরও সক্রিয় হতে হবে। প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি হাইকম্যান্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকলেও, হুমায়ুন কবীর নির্বাচনের আগে মুসলিম প্রধান দলগুলোকে একজোট করতে মরিয়া।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে লাগাতার আক্রমণ শানিয়ে হুমায়ুনের অভিযোগ, বর্তমান শাসনে সংখ্যালঘুরা অবহেলিত। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের পতন নিশ্চিত।

