আমেরিকায় ভয়াবহ তুষারঝড়: বাড়ছে মৃতের সংখ্যা, বিপর্যস্ত বিমান পরিষেবা – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
একটানা তুষারপাত এবং প্রবল তুষারঝড়ের কবলে পড়ে কার্যত থমকে গিয়েছে আমেরিকা। বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ার ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। হিমাঙ্ক ছোঁয়া তাপমাত্রায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
ঝড়ের তান্ডব ও ক্ষয়ক্ষতি
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (AP) প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার ঝড়টি পূর্ব দিকে অগ্রসর হওয়ার সাথে সাথে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে বরফের পুরু স্তর জমতে শুরু করেছে। দক্ষিণাঞ্চলে তুষার বৃষ্টির ফলে বহু গাছপালা এবং বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়েছে। আরকানসাস থেকে নিউ ইংল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃত এই ঝড়ের কবলে পড়ে প্রাণহানির সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। দেশের প্রায় ১,৩০০ মাইল এলাকা জুড়ে এক ফুটেরও বেশি বরফ জমেছে। পিটসবার্গের উত্তরাঞ্চলে ২০ ইঞ্চি পর্যন্ত তুষারপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং তাপমাত্রা নেমে গিয়েছে মাইনাস ২৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে বহু জাতীয় সড়ক বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন।
বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও প্রাণহানি
বর্তমানে আমেরিকার ৬ লক্ষেরও বেশি বাড়ি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে। কানসাসে বরফের স্তূপের নিচে আটকে পড়া এক মহিলার মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিউইয়র্কের অসহ্য ঠান্ডায় অন্তত আট জনের মৃত্যু হয়েছে বলে কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। মিসিসিপি প্রশাসনের মতে, ১৯৯৪ সালের পর এটিই রাজ্যের সবথেকে ভয়াবহ তুষারঝড়। লুইসিয়ানা, পেনসিলভানিয়া, টেনেসি এবং নিউ জার্সিতেও এই দুর্যোগের কারণে একাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
বিমান পরিষেবা স্তব্ধ
তুষারঝড়ের সবথেকে বড় প্রভাব পড়েছে বিমান পরিষেবার ওপর। সোমবার দেশজুড়ে ৮,০০০-এরও বেশি বিমান হয় বাতিল করা হয়েছে, না হয় ব্যাপক বিলম্বিত হয়েছে। কোভিড-১৯ অতিমারির পর এক দিনে এত বিপুল সংখ্যক বিমান বাতিল হওয়ার ঘটনা এই প্রথম। হাজার হাজার যাত্রী বিমানবন্দরে আটকে পড়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
রেকর্ড ভাঙা শৈত্যপ্রবাহ
নিউইয়র্ক সিটির সেন্ট্রাল পার্কে ১১ ইঞ্চি তুষারপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, ২০১৪ সালের পর এমন হাড়কাঁপানো গড় নিম্ন তাপমাত্রা আর দেখা যায়নি। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে প্রশাসন সাধারণ মানুষকে বাড়ির বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দিয়েছে এবং উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

