বিয়ের মাত্র ৬ ঘণ্টার মধ্যেই বাবা হলেন বর! কন্যাসন্তানের জন্ম দিলেন কনে – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
রামপুর: উত্তরপ্রদেশের রামপুর জেলায় এক চাঞ্চল্যকর ও বিস্ময়কর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। বিয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই, মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে নববধূর কোল আলো করে এল এক ফুটফুটে কন্যাসন্তান। এই খবর জানাজানি হতেই গোটা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
আজিম নগর থানা এলাকার কুমহারিয়া গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে বাহাদুরগঞ্জ গ্রামের এক তরুণীর মাস ছয়েক আগে বাগদান সম্পন্ন হয়েছিল। পারিবারিকভাবে ঠিক ছিল যে, বছর খানেক পর ধুমধাম করে তাদের বিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু আচমকাই ওই তরুণী থানায় গিয়ে হাজির হন এবং জেদ ধরেন যে, যার সঙ্গে তার বাগদান হয়েছে সেই যুবকের সঙ্গেই অবিলম্বে তার বিয়ে দিতে হবে।
পুলিশ দু’পক্ষের অভিভাবকদের থানায় ডেকে কথা বলে বিষয়টি মেটানোর চেষ্টা করে। দীর্ঘ আলোচনার পর শনিবার রাত ৮টা নাগাদ দুই পরিবারই দ্রুত বিয়েতে সম্মতি জানায়।
বিয়ের রাতেই নাটকীয় মোড়
পুলিশি হস্তক্ষেপে ওই রাতেই বিয়ের আয়োজন সারা হয়। রাত ৯টা নাগাদ বর মাত্র পাঁচজন আত্মীয়কে নিয়ে কনের বাড়ি যান এবং বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সেরে কনেকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন। কিন্তু আসল চমক তখনও বাকি ছিল। বাড়িতে আসার পর রাত ১২টা নাগাদ হঠাৎ নববধূর প্রচণ্ড পেটে ব্যথা শুরু হয়। পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত একজন মহিলা চিকিৎসককে খবর দেন। রবিবার ভোরে ওই তরুণী একটি সুস্থ কন্যাসন্তানের জন্ম দেন।
বরের উদারতায় মুগ্ধ গ্রামবাসী
সাধারণত এই ধরনের ঘটনায় পারিবারিক বিবাদ বা আইনি জটিলতা তৈরি হয়, কিন্তু এক্ষেত্রে দৃশ্যটি ছিল সম্পূর্ণ উল্টো। বিয়ের মাত্র ৬ ঘণ্টার মাথায় সন্তান প্রসব করলেও ওই যুবক বিন্দুমাত্র বিচলিত বা রাগান্বিত হননি। বরং অত্যন্ত উদারতার পরিচয় দিয়ে তিনি শিশুটিকে নিজের সন্তান হিসেবে গ্রহণ করে নেন। আনন্দের আতিশয্যে তিনি গোটা গ্রামে মিষ্টি বিতরণ করেন। বর্তমানে মা ও শিশু উভয়েই সুস্থ আছেন। বরের এই মানবিক ও ইতিবাচক মনোভাব এখন ওই এলাকায় প্রশংসার দাবি রাখছে।

