লেটেস্ট নিউজ

ইউজিসি বিবাদ নিয়ে অখিলেশ যাদবের বড় বয়ান, ‘দোষী যেন ছাড় না পায় আর নির্দোষ যেন না ফাসে’ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ইউজিসি (UGC) বিবাদ নিয়ে সমাজবাদী পার্টির জাতীয় সভাপতি অখিলেশ যাদব এক বড় বয়ান দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন যে, এই ঘটনায় দোষীরা যেন বেঁচে না যায় এবং কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন ফেঁসে না যায়। গত কয়েকদিন ধরে ইউজিসির নতুন আইন নিয়ে রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

সবর্ণ সমাজের মানুষজন এই নতুন আইনের বিরোধিতা করছেন। ইউজিসির এই নতুন নিয়ম বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই নতুন নিয়মের বিরুদ্ধে সবর্ণ সমাজ এবং সাধারণ শ্রেণির মানুষের ক্ষোভ তুঙ্গে। ধীরে ধীরে এই ক্ষোভ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। ছাত্র এবং বিভিন্ন সংগঠন—উভয় পক্ষই এর প্রতিবাদ জানাচ্ছে। যদিও গতকাল শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান ছাত্রদের আশ্বাস দিয়েছেন যে কারোর সাথে অন্যায় হবে না, তা সত্ত্বেও অসন্তোষ বজায় রয়েছে। বিষয়টি এখন সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টে ইউজিসি মামলা

এই নিয়মের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে অন্তত ২০টি আবেদন জমা পড়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৩ জানুয়ারি ইউজিসি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘প্রমোশন অফ ইক্যুইটি ইন হায়ার এডুকেশন ইনস্টিটিউশনস’ নিয়মাবলি, ২০২৬ জারি করেছে। এই নতুন নিয়মগুলি ২০১২ সালের পুরনো নিয়মের স্থলাভিষিক্ত হবে। এর অধীনে সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজে ‘ইক্যুইটি কমিটি’ গঠন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বিজেপি ধর্মের ঠিকাদার সাজছে: অখিলেশ

এই পুরো বিবাদে অখিলেশ যাদবের এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ‘ভারসাম্যপূর্ণ’ হিসেবে দেখছেন, যাতে সবর্ণ সমাজও খুশি থাকে এবং ভোটব্যাঙ্কেও কোনো আঁচ না লাগে। এছাড়া তিনি শঙ্করাচার্য এবং ‘বিকশিত ভারত জি-রাম-জি’ বিল নিয়েও নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন।

তিনি বলেন, মাঘ মেলায় শঙ্করাচার্য অভিমুক্তেশ্বরানন্দের অপমান করা হয়েছে। সেই ছবি সবাই দেখেছে, তাঁকে স্নান করতে দেওয়া হয়নি। সরকার ঐতিহ্য ভেঙেছে। অখিলেশ যাদব কটাক্ষ করে বলেন, বিজেপি ধর্মের ঠিকাদার সাজছে।

জি-রাম-জি নিয়ে কী বললেন অখিলেশ?

বাজেট অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রেক্ষিতে অখিলেশ বলেন, “বিকশিত ভারত জি-রাম-জি নিয়ে আমাদের ভাবনা পরিষ্কার। উত্তরপ্রদেশ আগে থেকেই বাজেটের জন্য দিল্লির দিকে তাকিয়ে আছে। আপনারা যদি বাজেট কমিয়ে দেন, তবে উত্তরপ্রদেশের কাজ কীভাবে চলবে বা গরিবরা কীভাবে কাজ পাবে?”

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “ওরা বলছে ধান, শস্য বা দুগ্ধ উৎপাদনে আমরা বিশ্বে অনেক এগিয়ে গিয়েছি। কিন্তু প্রথম দিন যে স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল যে কৃষকের আয় দ্বিগুণ হবে, আজ কি কৃষকের আয় দ্বিগুণ হয়েছে? যে মেট্রো হওয়ার কথা ছিল তা তৈরি হচ্ছে না, অথচ জলের ওপর মেট্রো চালানো হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যদি মেট্রো তৈরিই না হয়, তবে এগিয়ে যাওয়ার কী অর্থ?”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *