লেটেস্ট নিউজ

মিস্টার খামেনি কথা শুনুন, আমাদের পথে আসুন নতুবা ধ্বংস নিশ্চিত: ট্রাম্পের চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধের দামামা এখন তুঙ্গে। যেকোনো মুহূর্তে শুরু হতে পারে সংঘাত। খামেনিকে উদ্দেশ্য করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন— হাতে আর সময় নেই। যুদ্ধ নাকি আত্মসমর্পণ? সিদ্ধান্ত নিতে ইরানকে চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন তিনি।

খামেনিকে ট্রাম্পের কড়া বার্তা

ট্রাম্প তার বার্তায় অত্যন্ত কঠোর সুর ব্যবহার করেছেন। তিনি বলেন, “মিস্টার খামেনি, কথা শুনুন এবং আমেরিকার দেখানো পথে আসুন, অন্যথায় আপনার অস্তিত্ব মুছে যাবে।” এটি কেবল মুখের কথা নয়, বরং আমেরিকার যুদ্ধের ঘণ্টা। ট্রাম্পের টুইট বার্তার সারমর্ম হলো— ইরান যদি নতি স্বীকার না করে, তবে তাদের গুঁড়িয়ে দিতে আমেরিকা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। অতীতে ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর কথা মনে করিয়ে দিয়ে ট্রাম্প সতর্ক করেছেন যে, এবার যদি ইরান আলোচনার টেবিলে না আসে, তবে তাদের আগের চেয়েও ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে।

পরমাণু অস্ত্র নিয়ে অনড় অবস্থান

ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরানকে পরমাণু অস্ত্রের মোহ ত্যাগ করতে হবে। সবার মঙ্গলের জন্য একটি চুক্তিতে আসাই এখন ইরানের সামনে একমাত্র পথ। ট্রাম্পের কথায়, “ইরান যদি অহংকার দেখায় বা পরমাণু অস্ত্রের জোরে যুদ্ধের হুমকি দেয়, তবে আমাদের সামরিক ব্যবস্থা হবে নজিরবিহীন। ভেনেজুয়েলায় যা দেখেছেন তা কেবল ট্রেলার ছিল, ইরানের ক্ষেত্রে তার চেয়েও ভয়াবহ কিছু ঘটবে।” প্রয়োজনে সহিংসতার মাধ্যমে এই অভিযান শেষ করার প্রচ্ছন্ন হুমকিও দিয়েছেন তিনি।

যুদ্ধের প্রস্তুতি ও রণসজ্জা

ট্রাম্পের নির্দেশে মার্কিন সেনাবাহিনী ইতিমধ্যেই ইরানকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলতে শুরু করেছে। বিশালাকার এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার, যুদ্ধজাহাজ, ডেস্ট্রয়ার, মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম, ফাইটার জেট এবং ড্রোন যেকোনো সময় আক্রমণের জন্য প্রস্তুত। জানা গেছে, পরমাণু শক্তিচালিত যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এর নেতৃত্বাধীন স্ট্রাইক গ্রুপ দক্ষিণ চীন সাগর থেকে উত্তর আরব সাগরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। প্রায় ৮০টি যুদ্ধবিমান সমৃদ্ধ এই বাহিনী আমেরিকার অন্যতম শক্তিশালী অস্ত্র, যা এখন ইরানের দিকে তাক করা।

ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি

অন্যদিকে ইরানও পিছু হটতে নারাজ। আমেরিকার যেকোনো হামলার কড়া জবাব দিতে তারাও প্রস্তুতি নিচ্ছে। তেহরানের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয়েছে, ইরানের ওপর কোনো ধরনের হামলা হলে তাকে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ হিসেবে গণ্য করা হবে।

একদিকে আমেরিকা পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ ও শান্তির কথা বলছে, অন্যদিকে যুদ্ধের সব সরঞ্জাম সাজিয়ে ইরানকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে। খামেনির প্রতি ট্রাম্পের এই “হয় বন্ধু হও, না হয় ধ্বংস হও” বার্তা বিশ্ব রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *