বাড়িতে সংক্রামক রোগী? সুস্থ থাকতে মানুন চিকিৎসকের এই জরুরি টিপস – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
বাড়িতে সংক্রামক রোগের রোগী থাকলে পরিবারের অন্যদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে প্রবল। কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডাঃ সৌমিত্র ঘোষ জানাচ্ছেন, ঠিক কোন কোন উপায়ে সংক্রমণ ছড়ায় এবং পরিচর্যার সময় কী কী সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
সংক্রমণ কীভাবে ছড়ায়?
সংক্রমণ প্রধানত দুই ভাবে হতে পারে: প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ।
- সরাসরি সংক্রমণ: অতি ঘনিষ্ঠ শারীরিক সম্পর্ক, সংক্রমিত রক্ত বা দেহরসের মাধ্যমে হেপাটাইটিস বি বা এইচআইভি-র মতো রোগ ছড়ায়। এছাড়া হাঁচি-কাশির ড্রপলেট থেকে ছড়াতে পারে কোভিড বা ইনফ্লুয়েঞ্জা।
- পরোক্ষ সংক্রমণ: বাতাস (হাম, চিকেন পক্স), দূষিত জল ও খাবার (কলেরা, টাইফয়েড, হেপাটাইটিস এ) এবং মশার মাধ্যমে (ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া) রোগ ছড়াতে পারে। এমনকি রোগীর ব্যবহৃত পোশাক থেকেও জীবাণু ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে।
নিরাপদ পরিচর্যার সহজ পাঠ
পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষায় নিচের সতর্কতাগুলো মেনে চলা বাধ্যতামূলক:
১. পোশাক পরিষ্কারে সতর্কতা:
কলেরা বা পেটের রোগের রোগীর পোশাক পরিষ্কারের সময় অবশ্যই গ্লাভস ও মাস্ক পরুন। কাপড়গুলো প্রথমে ০.৫ শতাংশ ক্লোরিন সলিউশনে অথবা ডিটারজেন্ট মেশানো ফুটন্ত গরম জলে অন্তত ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রেখে তারপর কাচুন। কড়া রোদে কাপড় শুকানো নিশ্চিত করুন।
২. আইসোলেশন বা পৃথকীকরণ:
চিকেন পক্স বা ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো বায়ুবাহিত রোগের ক্ষেত্রে রোগীকে আলাদা ঘরে রাখুন। ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস থাকা জরুরি। রোগীর সংস্পর্শে যাওয়ার সময় মাস্ক ও গ্লাভস ব্যবহার করুন।
৩. ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা:
হেপাটাইটিস বি বা এইচআইভি আক্রান্ত রোগীর রক্ত বা শরীরের কোনো তরল যেন আপনার শরীরের কোনো ক্ষতের সংস্পর্শে না আসে। রোগীর ব্যবহৃত ব্লেড বা ব্যক্তিগত জিনিস অন্য কেউ ব্যবহার করবেন না।
৪. খাদ্যাভ্যাস ও যত্ন:
রোগীকে একবারে বেশি না খাইয়ে অল্প অল্প করে বারবার সহজপাচ্য ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার দিন। প্রচুর পরিমাণে তরল খাবার ডায়েটে রাখা জরুরি। রোগীর ঘর থেকে বেরিয়েই নিজের হাত সাবান দিয়ে ভালো করে ধুয়ে নিন।
সুস্থ থাকতে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। আপনার সামান্য সতর্কতা পরিবারের বাকি সদস্যদের বড় বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে।

