নেতাদের আকস্মিক মৃত্যুতে বারবার বদলেছে মারাঠা রাজনীতির গতিপথ – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
মুম্বই: মারাঠা রাজনীতির সমীকরণ বারবার বদলে দিয়েছে একের পর এক শীর্ষ নেতার আকস্মিক মৃত্যু। উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের সাম্প্রতিক প্রয়াণ যেন সেই পুরনো ক্ষতই ফের উসকে দিল। প্রমোদ মহাজন থেকে বিলাসরাও দেশমুখ কিংবা গোপীনাথ মুন্ডে—হেভিওয়েট নেতাদের অকালমৃত্যু বারবার মহারাষ্ট্রের রাজনীতির গতিপথ ঘুরিয়ে দিয়েছে।
বিজেপির ‘কিং মেকার’ ও পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন
২০০৬ সালের ৩ মে নিজের ভাইয়ের গুলিতে প্রাণ হারান তৎকালীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রমোদ মহাজন। অটল বিহারী বাজপেয়ি এবং লালকৃষ্ণ আদবানির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মহাজনকে বিজেপির আসল ‘চাণক্য’ বলা হতো। জীতেন্দ্র দীক্ষিতের বই ‘বম্বে আফটার অযোধ্যা’-তে উল্লেখ আছে, বাজপেয়ি-আদবানির পর নিজেকেই দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভাবতেন তিনি। তাঁর প্রয়াণে বিজেপি এক দক্ষ সংগঠককে হারিয়েছিল।
মাস্টারস্ট্রোক জুটি: মহাজন ও মুন্ডে
প্রমোদ মহাজন যদি হতেন ‘চাণক্য’, তবে গোপীনাথ মুন্ডে ছিলেন তাঁর ‘চন্দ্রগুপ্ত’। ১৯৯৫ সালে শিবসেনার সঙ্গে জোট করে মহারাষ্ট্রে কংগ্রেস শাসনের অবসান ঘটিয়েছিলেন এই জুটিই। ২০১৪ সালে এক পথ দুর্ঘটনায় মুন্ডের আকস্মিক মৃত্যু গেরুয়া শিবিরের জন্য ছিল এক বিশাল ধাক্কা।
কংগ্রেসের স্তম্ভপতন
মহারাষ্ট্রে কংগ্রেসের অন্যতম প্রাণপুরুষ ছিলেন বিলাসরাও দেশমুখ। দু’বারের এই মুখ্যমন্ত্রীর ২০১২ সালে অকালপ্রয়াণ রাজ্যের রাজনীতিতে কংগ্রেসের ভীত আলগা করে দিয়েছিল।
অজিত পাওয়ারের মৃত্যুতে ফের একবার মারাঠা রাজনীতিতে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হলো। বারবার এই ধরনের নক্ষত্রপতন মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে নতুন করে সাজাতে বাধ্য করেছে।

