লেটেস্ট নিউজ

ইউজিসির নতুন নিয়মে সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশ, সমর্থন জানালেন মায়াবতী – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ইউজিসি নিয়ম ২০২৬: উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতিগত বৈষম্য রোধে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC) কর্তৃক প্রবর্তিত ‘প্রমোশন অফ ইকুইটি ইন হায়ার এডুকেশন ইনস্টিটিউশনস রেগুলেশনস, ২০২৬’-এর ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানিয়েছে, এই নিয়মগুলো ‘অস্পষ্ট এবং সম্ভাব্য অপব্যবহারের উপযোগী’ বলে মনে হচ্ছে এবং এগুলো কার্যকর হলে সমাজে বিভাজন ও উত্তেজনা সৃষ্টির ঝুঁকি রয়েছে।

বিএসপি প্রধান মায়াবতী সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ (X) একটি পোস্টে লিখেছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে ইউজিসির নতুন নিয়মে সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশের সিদ্ধান্তটি সঠিক। তিনি বিশ্বাস করেন, এই নিয়ম কার্যকর করার আগে যদি সমস্ত পক্ষকে আস্থায় নেওয়া হতো, তবে সামাজিক উত্তেজনা তৈরি হতো না। তার এই পোস্টটি সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ভাইরাল হচ্ছে।

ইউজিসি নিয়মের ওপর সামাজিক প্রতিক্রিয়া

দেশজুড়ে ইউজিসির এই নতুন নিয়মের বিরুদ্ধে সাধারণ শ্রেণির ছাত্র ও সংগঠনগুলো প্রতিবাদে সরব হয়েছে। তাদের অভিযোগ, এই নিয়মগুলো বৈষম্যকে উসকে দেবে এবং সামাজিক উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি করবে। বিভিন্ন স্থানে বড় আকারের বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। কিছু নেতা ও দলের মতে, এই নিয়মের উদ্দেশ্য শিক্ষায় সমান সুযোগ প্রদান করা হলেও, তা কার্যকর করার আগে সকলের মত নেওয়া জরুরি ছিল।

বিতর্কের কারণ

বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন নিয়মের ভাষা ছিল ‘অস্পষ্ট’ এবং কিছু বিধান পরিষ্কার ছিল না। সাধারণ ও উচ্চবর্ণের ছাত্রদের দাবি, নিয়মগুলো কার্যকর করার আগে তাদের সাথে কোনো পরামর্শ করা হয়নি। এই কারণেই সামাজিক উত্তেজনা ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়, যা আদালতের সিদ্ধান্তকেও প্রভাবিত করেছে। সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্ত বিচারবিভাগীয় ভারসাম্যের একটি উদাহরণ, যা প্রমাণ করে যে কোনো সংবেদনশীল নীতি প্রণয়নের আগে সমস্ত সম্প্রদায়কে আস্থায় নেওয়া কতটা আবশ্যক।

ইউজিসির নতুন নিয়মের উদ্দেশ্য

গত ১৩ জানুয়ারি ২০২৬-এ ইউজিসি এই নতুন নিয়মগুলো জারি করেছিল। এর মূল লক্ষ্য ছিল বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে জাতিগত বৈষম্য বন্ধ করা এবং সমতা বৃদ্ধি করা। এর অধীনে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে ‘ইকুইটি কমিটি’, ‘ইকুয়াল অপরচুনিটি সেন্টার’ এবং ‘হেল্পলাইন’ তৈরি করা বাধ্যতামূলক ছিল। তবে বিতর্কের সূত্রপাত হয় যখন দেখা যায় যে, নতুন বিধানে জাতিগত বৈষম্যের সংজ্ঞা কেবল এসসি (SC), এসটি (ST) এবং ওবিসি (OBC)-দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। ফলে সাধারণ বা অগ্রবর্তী শ্রেণির ছাত্রদের অভিযোগ জানানোর কোনো সুযোগ ছিল না। এর বিরুদ্ধেই সুপ্রিম কোর্টে একাধিক পিটিশন দাখিল করা হয়।

সুপ্রিম কোর্টের রায়

সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চ জানিয়েছে, নতুন নিয়মগুলো অস্পষ্ট এবং এর ভাষাগত কাঠামোর কারণে অপব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। এই অবস্থায় নিয়মগুলো কার্যকর করলে সমাজে বিভাজন বাড়তে পারে। আপাতত ইউজিসির ২০১২ সালের পুরনো নিয়মগুলোই বহাল থাকবে এবং আগামী ১৯ মার্চ ২০২৬-এ এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। প্রধান বিচারপতি শুনানির সময় উল্লেখ করেন যে, স্বাধীনতার ৭৫ বছর পরেও যখন আমরা জাতিমুক্ত সমাজের কথা বলি, তখন এই ধরনের নিয়ম চালুর আগে সমস্ত পক্ষকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি স্পষ্ট ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আইনি ভাষা তৈরি করা উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *