লেটেস্ট নিউজ

‘ঈশ্বরের দোহাই, এমনটা করবেন না’, ইউজিসি-র নতুন নিয়মে স্থগিতাদেশ দিয়ে কড়া মন্তব্য সিজেআই সূর্যকান্তর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নয়াদিল্লি: দেশজুড়ে বর্ণ হিন্দুদের তীব্র বিক্ষোভের মুখে বৃহস্পতিবার বড় পদক্ষেপ নিল সুপ্রিম কোর্ট। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বা ইউজিসি-র বিতর্কিত নতুন নিয়মের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত। উত্তরপ্রদেশসহ একাধিক রাজ্যে ‘ইউজিসি (উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সমতা বৃদ্ধি) প্রবিধান ২০২৬’-এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর মামলাটি শীর্ষ আদালতে পৌঁছায়।

আদালত নতুন নিয়মে স্থগিতাদেশ দিয়ে জানিয়েছে, আপাতত ২০১২ সালের পুরনো নিয়মই কার্যকর থাকবে। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত নতুন নিয়মে বিভিন্ন জাতির ছাত্রদের জন্য পৃথক হস্টেলের ব্যবস্থার কড়া সমালোচনা করে বলেন, “ঈশ্বরের দোহাই, দয়া করে এমনটা করবেন না।” আদালত পর্যবেক্ষণ করেছে যে, ইউজিসি-র নতুন নিয়মের ৩ (সি) ধারা (যা জাতিগত বৈষম্যকে সংজ্ঞায়িত করে) একেবারেই অস্পষ্ট এবং এর অপব্যবহার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই ধারার ভাষা পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে বলে মত প্রকাশ করে কেন্দ্র ও ইউজিসি-র কাছে জবাব তলব করেছে কোর্ট।

বিতর্কের মূলে কী?

কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতিগত বৈষম্য রুখতে এই নতুন নিয়ম আনা হয়েছিল। এর অধীনে তফশিলি জাতি (SC), তফশিলি জনজাতি (ST) এবং ওবিসি (OBC) পড়ুয়াদের অভিযোগ শোনার জন্য বিশেষ কমিটি ও হেল্পলাইন তৈরির কথা বলা হয়েছিল। গত ১৩ জানুয়ারি ইউজিসি এই নিয়মগুলি কার্যকর করার কথা জানায়। কিন্তু এই নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর থেকেই সাধারণ শ্রেণির (General Cast) পড়ুয়াদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, একাধিক বিজেপি নেতাও ইস্তফা দেন।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ

শুনানি চলাকালীন সিজেআই সূর্যকান্ত প্রশ্ন তোলেন, “জাতিহীন সমাজ গড়ার লক্ষ্যে আমরা যেটুকু অর্জন করেছিলাম, এখন কি সেখান থেকে পিছিয়ে যাচ্ছি? তফশিলি জাতির মধ্যেও এমন অনেকে আছেন যারা এখন আর্থিকভাবে সচ্ছল।” পৃথক হস্টেলের প্রস্তাব নিয়ে তিনি বলেন, “ঈশ্বরের দোহাই, এমনটা করবেন না। আমরা সবাই একসঙ্গে থাকতাম। এমনকি আন্তঃজাতি বিবাহও প্রচলিত ছিল।” বেঞ্চের অপর সদস্য বিচারপতি বাগচীও মন্তব্য করেন যে, ভারতের ঐক্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেই প্রতিফলিত হওয়া উচিত।

কেন্দ্র ও ইউজিসি-কে নোটিশ

প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ এই নিয়মগুলোকে অস্পষ্ট বলে অভিহিত করেছেন। আদালত পরামর্শ দিয়েছে যে, প্রখ্যাত আইন বিশেষজ্ঞদের একটি কমিটির মাধ্যমে এই নিয়মগুলো পুনর্বিবেচনা করা উচিত। বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, “আমরা নোটিশ জারি করছি, যার জবাব ১৯ মার্চের মধ্যে দিতে হবে। সলিসিটর জেনারেল নোটিশ গ্রহণ করেছেন। আপাতত ২০২৬-এর ইউজিসি প্রবিধান কার্যকর হবে না এবং ২০১২-র নিয়মই বহাল থাকবে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *