বাজেটের মুখে সোনা-রুপোয় ধস: ২৪ ঘণ্টায় রুপো সস্তা ৮৫ হাজার, সোনার দামেও বড় পতন – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬ পেশের ঠিক আগেই যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল মূল্যবান ধাতুর বাজার। গত কয়েক মাস ধরে সোনা ও রুপোর দাম যে আকাশছোঁয়া উচ্চতায় পৌঁছেছিল, শুক্রবার তাতে দেখা গেল ঐতিহাসিক পতন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনার বাজারের সেই রেকর্ড গতির ‘বুদবুদ’ অবশেষে ফেটে গিয়েছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে রুপোর দাম প্রতি কেজিতে প্রায় ৮৫,০০০ টাকা কমেছে। পাল্লা দিয়ে কমেছে সোনার দামও, যা সাধারণ মধ্যবিত্ত ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
এমসিএক্স এবং বুলিয়ন বাজারে হাহাকার
মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) শুক্রবার রুপোর দামের পতন ছিল দেখার মতো। বৃহস্পতিবার যেখানে রুপো ৪ লক্ষ ২০ হাজার ৪৮ টাকায় পৌঁছে রেকর্ড গড়েছিল, শুক্রবার বিকেল নাগাদ তা ৬৫,০০০ টাকা কমে দাঁড়ায় ৩ লক্ষ ৩৫ হাজার ১ টাকায়। অর্থাৎ একদিনেই লগ্নিকারীরা বিপুল লোকসানের মুখে পড়েছেন। অন্যদিকে, বৃহস্পতিবারের তুলনায় সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে প্রায় ২৫,৫০০ টাকা কমে ১ লক্ষ ৬৭ হাজার ৪০৬ টাকায় নেমে এসেছে।
খুচরো বুলিয়ন বাজারেও এই পতনের ছবি স্পষ্ট। ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ৮,৫০০ টাকা কমে হয়েছে ১ লক্ষ ৬৯,৯৫০ টাকা। হলমার্ক গয়নার সোনার দামও ৮,১০০ টাকা হ্রাস পেয়ে ১ লক্ষ ৬১,৫৫০ টাকায় থিতু হয়েছে। রুপোর পাইকারি দরে তো আরও বড় পতন ঘটেছে— একদিনে ৩৪,১৫০ টাকা কমে এক কেজি রুপো এখন ৩ লক্ষ ৫১,১৫০ টাকায় মিলছে।
পতনের নেপথ্যে প্রধান চারটি কারণ
বাজার বিশেষজ্ঞরা এই আকস্মিক ধসের পিছনে একাধিক বিশ্বজনীন ও অভ্যন্তরীণ কারণকে দায়ী করছেন:
- মুনাফা বুকিং: গত কয়েক দিনে দাম রেকর্ড স্তরে পৌঁছানোর পর বড় বিনিয়োগকারীরা তড়িঘড়ি সোনা ও রুপো বিক্রি করে লভ্যাংশ ঘরে তুলতে শুরু করেছেন।
- শর্ট সেলিং: বাজারে বিক্রির চাপ বাড়তেই সক্রিয় হয়ে উঠেছেন শর্ট সেলাররা। আগে থেকে পণ্য বিক্রি করে দাম কমার পর তা ফের কিনে নেওয়ার এই কৌশলে রুপোর দর হুড়মুড়িয়ে পড়েছে।
- ডলারের শক্তিবৃদ্ধি: আমেরিকায় ফেডারেল রিজার্ভের শীর্ষ পদে রদবদল এবং ট্রাম্প প্রশাসনের প্রভাবে মার্কিন ডলার শক্তিশালী হয়েছে। আন্তর্জাতিক নিয়মে ডলার শক্তিশালী হলে সোনা ও রুপোর দাম সাধারণত কমে।
- ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা: বিশ্বজুড়ে চলতে থাকা যুদ্ধের আবহে এতদিন সোনা ছিল নিরাপদ বিনিয়োগ। তবে উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার ইঙ্গিত মিলতেই বিনিয়োগকারীরা অন্য সম্পদে নজর দিচ্ছেন।
ইটিএফ বাজারেও রক্তস্নান
ধাতব বাজারের এই অস্থিরতা থেকে রেহাই পায়নি শেয়ার বাজারের ‘গোল্ড’ এবং ‘সিলভার’ ইটিএফ (ETF)। আইসিআইসিআই এবং নিপ্পন ইন্ডিয়ার সিলভার ইটিএফের দর ১৮ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত পড়েছে। সোনার ইটিএফগুলোও ৯ থেকে ১০ শতাংশ পতনের সাক্ষী থেকেছে। বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজেটের আগে বাজারের এই সংশোধন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এখন নতুন করে বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা।

