লেটেস্ট নিউজ

আমাদের সম্পর্ক বিশেষ, তবে আমরা সতর্ক: পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে মুখ খুলল ভারতের বিদেশ মন্ত্রক – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ভারত ও বাংলাদেশের পারস্পরিক সম্পর্ক গত দেড় বছরে কার্যত তলানিতে ঠেকেছে। এরই মাঝে ভারত-বিরোধী দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সখ্যতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টায় নয়াদিল্লিও বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করছে। তবে ভারত সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র এবং এই সম্পর্ক অন্য কোনো দেশের সমীকরণের ওপর নির্ভরশীল নয়।

বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারতের জাতীয় স্বার্থকে প্রভাবিত করতে পারে এমন প্রতিটি পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখা হচ্ছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাড়তে থাকা ঘনিষ্ঠতা নিয়ে ভারত যথেষ্ট সতর্ক।

‘প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্কই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার’

লোকসভায় এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে বিদেশ প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং জানান, ভারতের কাছে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক অত্যন্ত বিশেষ। তিনি বলেন, “ভারত একটি গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের সমর্থক। এই বার্তা ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে, প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা ভারতের বিদেশনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ এবং এটি পারস্পরিক স্বার্থ ও পরিস্থিতির নিরিখে নির্ধারিত হয়।

সতর্ক অবস্থানে নয়াদিল্লি

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক বর্তমানে এক সংবেদনশীল পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে কি না এবং পাকিস্তান এই পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে সিং জানান, দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বন্ধন অত্যন্ত গভীর। তিনি পুনরায় স্পষ্ট করেন যে, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক তৃতীয় কোনো দেশের হস্তক্ষেপ বা সম্পর্কের দ্বারা প্রভাবিত হয় না। তবুও জাতীয় নিরাপত্তা বজায় রাখতে সরকার প্রতিটি পদক্ষেপ সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

‘সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা বাংলাদেশের দায়িত্ব’

বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলা ও সংখ্যালঘু সুরক্ষা প্রসঙ্গে বিদেশ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভারত সরকার এই বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের প্রতিটি বৈঠকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। প্রধানমন্ত্রী এবং বিদেশ মন্ত্রী স্বয়ং বাংলাদেশের বিদেশ উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে আলোচনায় বিষয়টি উত্থাপন করেছেন।

তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান যে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্পূর্ণভাবে সে দেশের সরকারের দায়িত্ব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *