লেটেস্ট নিউজ

শাহের ‘টার্গেট’ তৃণমূলের ১৪ হেভিওয়েট, মমতাকে খোলা চ্যালেঞ্জ ব্যারাকপুরে – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নির্বাচনের দামামা বাজতেই ফের উত্তপ্ত বাংলার রাজনীতি। শনিবার উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরে বিজেপির কর্মীসভা থেকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দুর্নীতির অভিযোগে সরব হয়ে শাহ এদিন তৃণমূলের এমন ১৪ জন হেভিওয়েট নেতা ও মন্ত্রীর তালিকা প্রকাশ করেন, যারা বিভিন্ন সময়ে জেল খেটেছেন বা ইডির তদন্তের আওতায় এসেছেন। শাহের দাবি, সাহস থাকলে এই ‘দাগি’ নেতাদের যেন আসন্ন ভোটে টিকিট না দেন মমতা।

দুর্নীতির পাহাড় ও ‘ভাইপো’ কটাক্ষ

অমিত শাহ এদিন তাঁর ভাষণে আগাগোড়া আক্রমণাত্মক ছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, মা-মাটি-মানুষের স্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় আসা তৃণমূল এখন দুর্নীতি আর সিন্ডিকেটের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। শাহ বলেন, “মমতাজি, আপনি কি ভয় পাচ্ছেন? যদি দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপনার লড়াই সত্যি হয়, তবে এই ১৪ জনকে টিকিট দেবেন না। আমি জানি আপনি সেটা পারবেন না, কারণ টিকিট না পেলে এঁরা সবাই ভাইপোর নাম ফাঁস করে দেবেন।” তিনি আরও যোগ করেন, ভাইপোকে মুখ্যমন্ত্রী করার স্বপ্নে মমতার চোখে যেন ছানি পড়েছে, আর বাংলার মানুষই ভোটের মাধ্যমে সেই ছানি কাটিয়ে দেবেন।

শাহের ‘ব্ল্যাকলিস্টে’ যারা রয়েছেন

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এদিন যে ১৪ জন নেতার নাম উল্লেখ করে আক্রমণ শানিয়েছেন, তাঁরা হলেন:

  • পার্থ চট্টোপাধ্যায়, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, মানিক ভট্টাচার্য ও জীবনকৃষ্ণ সাহা।
  • মদন মিত্র, ফিরহাদ হাকিম, অনুব্রত মণ্ডল ও কুন্তল ঘোষ।
  • কুণাল ঘোষ, আরাবুল ইসলাম, অজিত মাইতি ও চন্দ্রনাথ সিংহ।
  • শোভন চট্টোপাধ্যায় ও পরেশ পাল।

শাহ স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমাদের সরকার গড়তে দিন, যারা এখনও বাইরে আছেন, তাঁদেরও জেলের ভেতরে ঢোকানো হবে। বেছে বেছে প্রতিটি দুর্নীতির তদন্ত হবে।”

অনুপ্রবেশ ও শ্যামাপ্রসাদের ঐতিহ্য

দুর্নীতির পাশাপাশি অনুপ্রবেশ ইস্যু নিয়েও রাজ্য সরকারকে বিঁধেছেন শাহ। তাঁর দাবি, তৃণমূলের আমলে বাংলার জনবিন্যাস বদলে যাচ্ছে এবং অনুপ্রবেশকারীরা মাটির দখল নিচ্ছে। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের লড়াইয়ের কারণেই পশ্চিমবঙ্গ আজ ভারতের অংশ। শাহের কথায়, “বিজেপি ২১টি রাজ্যে ক্ষমতায় থাকলেও মোদীজি ততক্ষণ তৃপ্ত হবেন না, যতক্ষণ না ২২তম রাজ্য হিসেবে বাংলায় পদ্ম ফুটছে। সোনার বাংলা গড়াই হবে শহিদদের প্রতি আসল শ্রদ্ধাঞ্জলি।”

রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে

অমিত শাহের এই কড়া আক্রমণের পাল্টা জবাব দিয়েছে তৃণমূলও। শাসকদলের পাল্টা দাবি, কেন্দ্রীয় এজেন্সি ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করছে বিজেপি। তবে ব্যারাকপুরের সভা থেকে শাহের এই তালিকা প্রকাশ এবং সরাসরি টিকিট না দেওয়ার চ্যালেঞ্জ বঙ্গ রাজনীতির সমীকরণকে যে আরও জটিল করে তুলল, তা বলাই বাহুল্য।

আসন্ন নির্বাচনে এই ১৪ জন ‘দাগি’ নেতার ভাগ্য কী হবে এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই চ্যালেঞ্জের জবাবে কী পদক্ষেপ নেন, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *