নিঃসন্তান হওয়ার যন্ত্রণা: একসঙ্গে মরার প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্ত্রীকে আত্মহননে ঠেলে দিয়ে পালালেন স্বামী – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
কেরল: দীর্ঘ ছয় বছরের বিবাহিত জীবন, কিন্তু কোল আলো করে আসেনি কোনো সন্তান। এই দুঃখ থেকেই দম্পতি স্থির করেছিলেন একসঙ্গে পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়ার। কিন্তু জীবনাবসানের সেই মরণখেলায় স্ত্রীকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়ে নিজে কৌশলে বেঁচে ফিরলেন স্বামী। কেরলের পালক্কাড জেলার কোট্টায়িতে ঘটে যাওয়া এই নৃশংস প্রতারণার ঘটনায় শিউরে উঠছে মানুষ। অভিযুক্ত স্বামী শিবদাসনকে ইতিধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও ভয়াবহ প্রতারণা
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কোট্টায়ির বাসিন্দা শিবদাসন ও দীপিকা ছয় বছর আগে প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন। দাম্পত্য জীবন সুখের হলেও সন্তান না হওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন দীপিকা। এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই শিবদাসন এক ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা ছকে ফেলে। সে দীপিকাকে বিশ্বাস করায় যে, সন্তানহীন জীবনের গ্লানি মুছে ফেলতে তাদের দুজনেরই একসঙ্গে আত্মহত্যা করা উচিত।
গত ২৫ জানুয়ারি পরিকল্পনা অনুযায়ী দীপিকা বাড়ির ভেতর শাড়ির ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হন। অভিযোগ, দীপিকা যখন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছিলেন, শিবদাসন পাশে দাঁড়িয়ে নির্বিকারভাবে তা প্রত্যক্ষ করছিল। স্ত্রীর মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর নিজের আত্মহত্যার নাটক সাজানোর পরিবর্তে সে কৌশলে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়।
যেভাবে ফাঁস হলো সত্য
দীপিকার মৃত্যুর পর ঘটনাটিকে স্বাভাবিক বা দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল শিবদাসন। সে প্রতিবেশী ও আত্মীয়দের জানায়, দীপিকা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে (ফিটস বা মৃগীরোগের মতো) মারা গিয়েছেন। কিন্তু তার অসংলগ্ন কথাবার্তা এবং আচরণে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠায় এবং শিবদাসনকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।
পুলিশি জেরার মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়ে শিবদাসন। সে স্বীকার করে যে, স্ত্রীকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দিয়ে সে নিজে পিছিয়ে এসেছিল। অর্থাৎ, স্ত্রীকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়ে নিজে নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়াই ছিল তার উদ্দেশ্য।
আইনি পদক্ষেপ
এই ঘটনায় পুলিশ শিবদাসনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা (Abetment of Suicide) এবং প্রতারণার মামলা রুজু করেছে। তদন্তকারীদের দাবি, এটি নিছক আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে স্ত্রীকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া। বর্তমানে অভিযুক্ত জেল হেফাজতে রয়েছে এবং ঘটনার গভীরে যেতে পুলিশ আরও তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা করছে।

