লেটেস্ট নিউজ

রাবণের মৃত্যুর পর শূর্পণখার কী হয়েছিল? আড়ালে থাকা সেই রহস্যময় পরিণতির গল্প জানলে অবাক হবেন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

রামায়ণে রাবণ, মেঘনাদ এবং কুম্ভকর্ণের বীরত্ব ও তাঁদের করুণ পরিণতির কথা আমরা সবাই জানি। কিন্তু লঙ্কার বিনাশের পর রাবণের বোন শূর্পণখার ভাগ্যে ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিয়ে আজও অনেক রহস্য দানা বেঁধে আছে। জানলে অবাক হবেন, তাঁর শেষ জীবনের কাহিনী কোনো সাধারণ যুদ্ধের চেয়ে কম রোমাঞ্চকর নয়।

মায়াবী যোগিনী স্বয়ংপ্রভা এবং শূর্পণখার চক্রান্ত

শূর্পণখার পরিণতির মূলে রয়েছে ‘স্বয়ংপ্রভা’ নামক এক রহস্যময়ী চরিত্র। পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, স্বয়ংপ্রভা ছিলেন এক অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী যোগিনী। তিনি এক দিব্য মায়াবী উদ্যানে বাস করতেন এবং কঠোর তপস্যায় মগ্ন থাকতেন। কিন্তু প্রতিহিংসায় অন্ধ শূর্পণখা ছলনা করে স্বয়ংপ্রভাকে বন্দি করেন এবং তাঁর তান্ত্রিক ক্ষমতা দখল করে সেই উদ্যানের মালকিন হয়ে বসেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল সেই মায়াবী শক্তি ব্যবহার করে রাম ও লক্ষ্মণের ক্ষতি করা।

হনুমানের আগমন এবং শূর্পণখার বন্দিত্ব

সীতা দেবীর খোঁজে যখন হনুমান, অঙ্গদ ও জাম্ববান দক্ষিণ দিকে যাচ্ছিলেন, তখন ভাগ্যচক্রে তাঁরা সেই মায়াবী উদ্যানে প্রবেশ করেন। সেখানে পৌঁছে তাঁরা যোগিনী স্বয়ংপ্রভাকে শূর্পণখার হাত থেকে মুক্ত করেন। মুক্তি পাওয়ার পর স্বয়ংপ্রভা তাঁর দিব্য শক্তিতে শূর্পণখাকে সেই উদ্যানের মায়াজালেই বন্দি করে ফেলেন। হনুমানের পরামর্শে তাঁকে হত্যা না করে দীর্ঘস্থায়ী শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়।

মৃত্যুর চেয়েও কঠিন শাস্তি

বলা হয়, স্বয়ংপ্রভা শূর্পণখাকে এক ভয়ঙ্কর অভিশাপ দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “তুমি নিজের চোখে হনুমানের হাতে তোমার ভাইদের বিনাশ দেখবে এবং শ্রীরামের সঙ্গে সীতা দেবীর পুনর্মিলনও প্রত্যক্ষ করবে।” নিজের বংশের ধ্বংস এবং শত্রুর বিজয় চাক্ষুষ করা ছিল শূর্পণখার জন্য যে কোনো শারীরিক যন্ত্রণার চেয়েও বড় মানসিক শাস্তি।

শেষ পর্যন্ত কী হয়েছিল শূর্পণখার?

শূর্পণখার মৃত্যু নিয়ে বিভিন্ন গ্রন্থে নানা মতভেদ রয়েছে। কিছু লোককথা ও আঞ্চলিক পুরাণ অনুযায়ী, লঙ্কা যুদ্ধের বহু বছর পর সমুদ্রতীরে শূর্পণখা এবং তাঁর সৎ বোন কুম্ভিনীর মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল। তবে মূল বাল্মীকি রামায়ণে তাঁর পরবর্তী জীবন সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ নেই। মূলত ক্ষমতা আর প্রতিহিংসার অপব্যবহার যে মানুষকে কতটা করুণ পরিণতির দিকে ঠেলে দিতে পারে, শূর্পণখার জীবন তারই এক জ্বলন্ত উদাহরণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *