চীনের দোরগোড়ায় নামল প্রধানমন্ত্রীর বিমান, উত্তর-পূর্বে তৈরি ইতিহাস – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল আসাম। চিন সীমান্তের একদম কাছে ডিব্রুগড়ের মোরান বাইপাসে তৈরি প্রথম ‘এমারজেন্সি ল্যান্ডিং ফ্যাসিলিটি’ বা ইএলএফ-এ অবতরণ করল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিমান। এই ঘটনাকে বেজিংয়ের প্রতি ভারতের এক কড়া সামরিক ও কৌশলগত বার্তা হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
তিন মাসের মধ্যে এটি প্রধানমন্ত্রীর তৃতীয় আসাম সফর। এদিন তিনি যে রানওয়েতে নামলেন, সেখানে ভারতীয় বায়ুসেনার ফাইটার জেট, মালবাহী বিমান এবং হেলিকপ্টারগুলি তাদের যুদ্ধকৌশল প্রদর্শন করে। উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোর মধ্যে এই প্রথম এমন কোনো জরুরি অবতরণ ব্যবস্থা চালু করা হলো, যা একাধারে সামরিক প্রয়োজনে এবং সাধারণ বিমানের জরুরি অবতরণে ব্যবহার করা যাবে।
প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নয়া মাইলফলক
ভারতীয় বায়ুসেনার সহযোগিতায় নির্মিত এই ল্যান্ডিং স্ট্রিপটি অত্যন্ত শক্তিশালী। এটি অনায়াসেই ৪০ টন ওজনের যুদ্ধবিমান এবং ৭৪ টন ওজনের মালবাহী বিমানের ভার সইতে সক্ষম। প্রাকৃতিক বিপর্যয় কিংবা সীমান্ত উত্তেজনার সময় এই রানওয়েটি গেম-চেঞ্জার হয়ে উঠতে পারে। উত্তরপ্রদেশ, ওডিশা বা অন্ধ্রপ্রদেশের নেল্লোরে এমন সুবিধা থাকলেও, ডিব্রুগড়ের এই স্ট্রিপটি সরাসরি চিন সীমান্তের কাছে হওয়ায় এর গুরুত্ব বহুগুণ বেশি।
আসামের উন্নয়নে ৩০০০ কোটির উপহার
বিমানবন্দরের এই কর্মসূচির পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী আসামের জন্য প্রায় ৩০০০ কোটি টাকার উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ডালি সাজিয়েছেন। গুয়াহাটি ও উত্তর গুয়াহাটির মধ্যে যোগাযোগ সহজ করতে তিনি উদ্বোধন করবেন ৬ লেনের ‘কুমার ভাস্কর বর্মা সেতু’। এছাড়াও আইআইএম গুয়াহাটির অস্থায়ী ক্যাম্পাস এবং একটি হাইপার-স্কেল ডেটা সেন্টারের ডিজিটাল উদ্বোধন করবেন তিনি। এই পদক্ষেপের ফলে আসাম এখন আইআইটি, আইআইএম এবং এইমস-এর মতো দেশের সমস্ত নামী প্রতিষ্ঠানের ঠিকানায় পরিণত হলো।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। এই সফর এবং নয়া সামরিক পরিকাঠামো উত্তর-পূর্ব ভারতে দিল্লির প্রভাব ও নিরাপত্তার ভিতকে আরও মজবুত করল।

