ছেলের মৃত্যুতে নিঃস্ব বাবার অকল্পনীয় প্রাপ্তি, ব্যাংক ম্যানেজারই দেবদূত হয়ে ঘরে ফেরালেন ২০ লাখ টাকা – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
সহারাণপুর জেলার তিলফরা গ্রামের সুরেন্দ্র সিংয়ের জীবনে নেমে এসেছিল চরম অন্ধকার। একমাত্র সন্তান বংশ রানার অকাল মৃত্যু আর স্ত্রীর বিয়োগে তিনি ছিলেন দিশেহারা। নিজের সহায়-সম্বলটুকুও হারিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। কিন্তু তাঁর এই ঘোর দুর্দিনে পাশে দাঁড়াল এসবিআই (SBI) কর্তৃপক্ষ। ব্যাংক কর্মকর্তাদের মানবিক উদ্যোগে ওই বৃদ্ধের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে গেল ২০ লক্ষ টাকার বিমা রাশি।
মর্মান্তিক সেই দুর্ঘটনা ও এক অসহায় বাবার লড়াই
বছর দেড়েক আগে দেরাদুন থেকে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ২১ বছর বয়সী তরুণ বংশ রানা। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে শোক সইতে না পেরে কিছুদিন পরেই মারা যান তাঁর মা-ও। সুরেন্দ্র সিং তাঁর চার বিঘা জমি এবং ঘরবাড়ি বিক্রি করে দিয়েছিলেন ছেলের পড়াশোনা ও বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন পূরণের জন্য। পরিবারের একমাত্র প্রদীপ নিভে যাওয়ার পর তিনি আক্ষরিক অর্থেই পথের ভিখারি হয়ে পড়েন। বর্তমানে মাথা গোঁজার নিজস্ব ঠাঁইটুকুও তাঁর নেই।
ব্যাংক কর্মকর্তাদের মানবিক উদ্যোগ
বংশ রানার নামে ব্যাংকে একটি ব্যক্তিগত দুর্ঘটনা বিমা (Personal Accident Insurance) ছিল, যা তাঁর পরিবার জানত না। কেওয়াইসি (KYC) আপডেট করার সময় নানৌতা শাখার ব্যাংক কর্মীরা দুর্ঘটনাটির কথা জানতে পারেন। এরপরই শাখা প্রবন্ধক গৌরব কুমার ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগী হয়ে সমস্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্র জোগাড় করেন। রিজিওনাল ম্যানেজার রাজীব রঞ্জন এবং চিফ ম্যানেজার শচীন দেবের নির্দেশে দ্রুততার সঙ্গে বিমার দাবি পেশ করা হয়।
মাত্র ১০০০ টাকার বিমায় বড়সড় নিরাপত্তা
ব্যাংক ম্যানেজার জানিয়েছেন, বংশের নামে বছরে মাত্র এক হাজার টাকার একটি পলিসি ছিল। যার আওতায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে মৃত্যু হলে ২০ লক্ষ টাকা পাওয়ার কথা। নথিপত্রের জটিলতা কাটিয়ে সুরেন্দ্র সিংয়ের অ্যাকাউন্টে সেই বিশাল অংকের টাকা জমা হয়েছে।
এই ঘটনাটি সাধারণ মানুষকে বিমার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন হওয়ার বার্তা দিচ্ছে। ব্যাংক কর্মকর্তাদের এই অভাবনীয় সহযোগিতা সমাজ ও প্রশাসনের কাছে প্রশংসিত হয়েছে। নিঃস্ব সুরেন্দ্র সিংয়ের কাছে এই ২০ লক্ষ টাকা এখন বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন।

