লেটেস্ট নিউজ

কোমর ব্যথা ও রক্তাল্পতা দূর করবে ম্যাজিকের মতো! মহিলাদের জন্য মহৌষধ এই একটি লাড্ডু – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বর্তমান সময়ে অনিয়মিত জীবনযাপন এবং পুষ্টির অভাবে বহু মহিলাই হাড়ের জয়েন্টে ব্যথা, কোমরে যন্ত্রণা এবং প্রচণ্ড শারীরিক দুর্বলতায় ভোগেন। চিকিৎসকদের মতে, শরীরে আয়রন এবং ক্যালসিয়ামের ঘাটতিই এর প্রধান কারণ। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে দামী ওষুধের বদলে ঘরোয়া উপায়ে তৈরি ‘তিল ও গুড়ের লাড্ডু’ হতে পারে আপনার পরম বন্ধু। বিশেষ করে ভারতীয় সংস্কৃতিতে তিলের নাড়ু বা লাড্ডু কেবল উৎসবের খাবার নয়, এটি একটি শক্তিশালী ‘সুপারফুড’ হিসেবেও স্বীকৃত।

কেন এটি মহিলাদের জন্য সঞ্জীবনী?

তিল এবং গুড়—উভয় উপাদানই পুষ্টিগুণে ঠাসা। তিলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, যা হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে সাহায্য করে। অন্যদিকে গুড় হলো প্রাকৃতিক আয়রনের উৎস, যা রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বৃদ্ধি করে অ্যানিমিয়া বা রক্তাল্পতা প্রতিরোধ করে। এছাড়া তিলে থাকা ম্যাগনেসিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শীতকালে বা ঋতু পরিবর্তনের সময় এই লাড্ডু শরীরে প্রয়োজনীয় উষ্ণতা জোগায়।

উপকরণ যা যা লাগবে

সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর তিলের লাড্ডু তৈরি করতে আপনার রান্নাঘরের সাধারণ কিছু উপকরণই যথেষ্ট:

  • সাদা বা কালো তিল (১ কাপ)
  • কোরানো গুড় (৩/৪ কাপ)
  • এলাচ গুঁড়ো (আধা চা চামচ)
  • গাওয়া ঘি (২ চামচ)

তৈরির সহজ পদ্ধতি

১. তিল ভাজা: প্রথমে একটি প্যানে তিল নিয়ে হালকা আঁচে নাড়াচাড়া করুন। তিল থেকে সুন্দর সুগন্ধ বেরোলে এবং হালকা বাদামী রং ধরলে নামিয়ে আলাদা করে রাখুন।

২. পাক তৈরি: এবার ওই প্যানে কোরানো গুড় এবং সামান্য জল দিয়ে জ্বাল দিন। গুড় গলে গিয়ে যখন আঠালো বা ফেনার মতো হবে, তখন এক বাটি জলে সামান্য গুড় ফেলে পরীক্ষা করুন। যদি গুড়টি জমাট বেঁধে বলের মতো হয়ে যায়, বুঝবেন পাক তৈরি।

৩. মিশ্রণ: এরপর এতে এলাচ গুঁড়ো, ঘি এবং আগে থেকে ভেজে রাখা তিল দিয়ে দ্রুত মিশিয়ে নিন।

৪. লাড্ডু তৈরি: মিশ্রণটি হালকা গরম থাকাকালীন হাতে সামান্য ঘি মেখে ছোট ছোট গোল লাড্ডুর আকারে গড়ে নিন। ঠাণ্ডা হয়ে গেলে এটি শক্ত হয়ে যাবে, তাই গরম থাকতেই লাড্ডু বানানো জরুরি।

স্বাস্থ্যগুণ একনজরে

  • হাড়ের সুরক্ষা: নিয়মিত তিলের লাড্ডু খেলে অস্টিওপরোসিসের মতো হাড়ের ক্ষয়রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
  • শক্তি বৃদ্ধি: বিকেলের জলখাবারে বাইরের ভাজাভুজির বদলে একটি করে তিলের লাড্ডু খেলে তাৎক্ষণিক এনার্জি পাওয়া যায় এবং শরীরের ক্লান্তি দূর হয়।
  • হজমে সহায়তা: গুড় ও তিলের সংমিশ্রণ বিপাক প্রক্রিয়াকে উন্নত করে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমায়।

দামী সাপ্লিমেন্টের পেছনে টাকা খরচ না করে প্রতিদিন ডায়েটে এই প্রাচীন ও কার্যকরী ঘরোয়া লাড্ডু যুক্ত করুন। এটি কেবল আপনার রসনা তৃপ্তি করবে না, বরং ভেতর থেকে শরীরকে করে তুলবে শক্তিশালী ও প্রাণবন্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *