নেই কোনো ব্যক্তিগত জন্মদিন, ভিয়েতনামের অদ্ভুত এই প্রথা সম্পর্কে জানলে অবাক হবেন আপনিও – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
February 17, 202610:36 am
সারা বিশ্বের মানুষ নিজের জন্মদিনে কেক কেটে বা উৎসব করে আনন্দ করেন। কিন্তু জানেন কি এমন একটি দেশ আছে যেখানে কারোরই আলাদা কোনো জন্মদিন নেই? আশ্চর্যের বিষয় হলেও সত্যি যে, ভিয়েতনামের মানুষ ব্যক্তিগতভাবে জন্মদিন পালন করেন না। এর বদলে গোটা দেশ বছরের একটি নির্দিষ্ট দিনে একসঙ্গে সবার জন্মদিন উদযাপন করে।
কেন এই অদ্ভুত নিয়ম?
ভিয়েতনামের সবচেয়ে বড় উৎসব হলো ‘টেট নগুয়েন ডান’ বা সংক্ষেপে ‘টেট’। এটি আসলে তাদের চান্দ্র নববর্ষ। ঐতিহাসিকভাবে ভিয়েতনামীরা বিশ্বাস করেন যে, এই ‘টেট’ উৎসবের দিনেই দেশের প্রতিটি মানুষ এক বছর করে বড় হয়ে যান। আপনার আসল জন্মতারিখ যাই হোক না কেন, নববর্ষের দিনেই আপনার বয়স এক বছর বাড়বে—এটাই সেখানকার রীতি।
জন্মের সময়ই শিশুর বয়স ১ বছর
ভিয়েতনামের প্রথা অনুযায়ী, একটি শিশু যখন ভূমিষ্ঠ হয়, তখন থেকেই তার বয়স ১ বছর ধরা হয়। তাদের বিশ্বাস, জীবন মাতৃগর্ভ থেকেই শুরু হয়, তাই জন্মের আগের সময়টুকুও বয়সের অন্তর্ভুক্ত। এই বিশেষ হিসাব এবং সবার একসঙ্গে বয়স বাড়ার নিয়মের কারণে আলাদা করে জন্মতারিখ মনে রাখার প্রয়োজনীয়তা সেখানে ঐতিহাসিকভাবে অনেক কম।
ব্যক্তিগত উৎসবের চেয়ে পরিবার বড়
ভিয়েতনামী সমাজে ব্যক্তিগত পরিচয়ের চেয়ে পারিবারিক এবং সামষ্টিক পরিচয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেখানে নিজের জন্মদিন উদযাপনের চেয়ে মা-বাবা এবং পূর্বপুরুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাকে বেশি পুণ্যের কাজ বলে মনে করা হয়। তাদের দর্শনে জন্ম মানেই জীবনের লড়াইয়ের শুরু, তাই এটিকে বড় কোনো উৎসব হিসেবে না দেখে আধ্যাত্মিক গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়।
তবে আধুনিক যুগে বিশ্বায়নের প্রভাবে ভিয়েতনামের বড় শহরগুলোতে এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পশ্চিমা ধাঁচে জন্মদিন পালনের চল শুরু হয়েছে। এখন সেখানেও কেক কাটা বা পার্টির আয়োজন চোখে পড়ে, কিন্তু তাদের শিকড়ের এই ‘টেট’ উৎসবের ঐতিহ্য আজও অমলিন।

