শাসকদলের নিশানায় হুমায়ুন পরিবার? সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের হুঁশিয়ারি ও প্রার্থীপদ ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা
বেআইনিভাবে জলাশয় ভরাট করে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগে রেজিনগরের মানিক্যহার গ্রামে বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের স্ত্রী মীরা সুলতানাকে শোকজ করল জেলা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর। সাত দিনের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না মিললে ওই সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ইঙ্গিত দিয়েছে প্রশাসন। ইতিপূর্বে একটি পুরনো মাদক মামলার সূত্রে হুমায়ুনের মেয়ে ও জামাইয়ের সম্পত্তিও পুলিশি অভিযানের মুখে পড়েছে। প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে দাবি করেছেন ভরতপুরের সাসপেন্ডেড তৃণমূল বিধায়ক তথা জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর।
হুমায়ুন কবীরের দাবি, তাঁর নবগঠিত দলের উত্থানে ভীত হয়েই পুলিশ ও প্রশাসনকে ব্যবহার করে তাঁর পরিবারের ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। বিস্ফোরক অভিযোগে তিনি জানিয়েছেন, একদিকে যখন তাঁর পরিজনদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া চলছে, অন্যদিকে লালগোলা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে তাঁর জামাইকে প্রার্থী করার প্রস্তাব দিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। মালদহের এক আত্মীয়ের মাধ্যমে এই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে দাবি হুমায়ুনের। যদিও শাসকদলের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর হুমায়ুন কবীর বর্তমানে সিপিআই(এম), আইএসএফ এবং আরাবুল ইসলামের মতো নেতাদের সঙ্গে জোট গড়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন। নির্বাচনের প্রাক্কালে একদিকে পরিবারের আইনি জটিলতা এবং অন্যদিকে শাসকদলের পক্ষ থেকে প্রার্থীপদের প্রস্তাবের এই দ্বিমুখী টানাপোড়েন রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। প্রশাসনের কড়া অবস্থান ও হুমায়ুনের পাল্টা রণকৌশল আগামী বিধানসভা নির্বাচনের সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

