লেটেস্ট নিউজ

শারীরিক প্রবেশ না হলে বীর্যপাত হলেও তা ধর্ষণ নয়! ২০ বছর পুরোনো মামলায় ছত্তিশগড় হাইকোর্টের বড় রায় – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ছত্তিশগড় হাইকোর্ট সম্প্রতি ২০ বছর আগের একটি ধর্ষণ মামলার বিচার করতে গিয়ে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তাৎপর্যপূর্ণ রায় প্রদান করেছে। আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যৌন মিলনের সময় যদি শারীরিক ‘প্রবেশ’ (Penetration) না ঘটে, তবে শুধুমাত্র বীর্যপাত হওয়াকে আইনের চোখে ‘ধর্ষণ’ হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

মামলার প্রেক্ষাপট

ঘটনাটি ২০০৪ সালের। এক মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে ২০০৫ সালে নিম্ন আদালত এক ব্যক্তিকে ধর্ষণের দায়ে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল। অভিযুক্ত ব্যক্তি সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন জানান। তার দাবি ছিল, তিনি শারীরিক নিগ্রহ বা শ্লীলতাহানি করলেও কোনো যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেননি।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও মেডিকেল রিপোর্ট

বিচারপতি নরেন্দ্র কুমার ব্যাসের বেঞ্চ এই মামলার শুনানিতে ভিকটিমের মেডিকেল রিপোর্ট খতিয়ে দেখেন। সেখানে দেখা যায়, মহিলার ‘হাইমেন’ (Hymen) অক্ষত ছিল। ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) ৩৭৬ ধারা অনুযায়ী, ধর্ষণের অপরাধ প্রমাণ করতে পুরুষ জননাঙ্গের প্রবেশ (তা আংশিক হলেও) বাধ্যতামূলক।

আদালত লক্ষ্য করেছে যে, অভিযোগকারিণীর বয়ানেও যথেষ্ট বৈপরীত্য ছিল। শুরুতে ধর্ষণের কথা বললেও পরবর্তীতে তিনি স্বীকার করেন যে, অভিযুক্ত কেবল শরীরের উপরিভাগে সংস্পর্শ করেছিলেন।

রায়ের মূল নির্যাস

আদালত তার পর্যবেক্ষণে জানায়:

  • ধর্ষণের অপরাধ সাব্যস্ত হওয়ার জন্য শারীরিক প্রবেশ বা পেনিট্রেশন প্রথম ও প্রধান শর্ত।
  • যদি প্রবেশ না ঘটে থাকে, তবে সেটিকে ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ (Attempt to Rape) হিসেবে গণ্য করা হবে, পূর্ণাঙ্গ ধর্ষণ নয়।

সাজা সংশোধন

শারীরিক সম্পর্কের কোনো অকাট্য প্রমাণ না থাকায় হাইকোর্ট অভিযুক্তের সাজা কমিয়ে দেয়। নিম্ন আদালতের দেওয়া ৭ বছরের কারাদণ্ড কমিয়ে ৩ বছর ৬ মাস করা হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ধর্ষণের মামলায় ‘পেনিট্রেশন’-এর আইনি বাধ্যবাধকতা এই রায়ের মাধ্যমে পুনরায় সংজ্ঞায়িত হলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *