রোজের ডায়েটে সয়া আছে? স্তন ক্যানসার নিয়ে নতুন তথ্য জানলে চমকে উঠবেন
সাম্প্রতিক গবেষণায় সয়া জাতীয় খাবার ও স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি নিয়ে প্রচলিত ধারণা খণ্ডন করেছেন আমেরিকার ক্লেভল্যান্ড ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞরা। ডা. এরিন রোয়েশ ও ডা. টিফানি ওঙ্গার জানান, সয়ায় থাকা ‘ফাইটোইস্ট্রোজেন’ মানবদেহের ইস্ট্রোজেন হরমোনের মতো আচরণ করলেও তা ক্যানসার কোষের বৃদ্ধিতে সরাসরি ভূমিকা রাখে না। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় উচ্চ মাত্রার আইসোফ্লাভোন নিয়ে উদ্বেগের ইঙ্গিত মিললেও মানুষের ওপর করা ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে এর কোনো নেতিবাচক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিকভাবে সয়াবিন, টোফু বা সয়া দুধ গ্রহণ করা নিরাপদ, তবে প্রক্রিয়াজাত সয়া সাপ্লিমেন্ট এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। সাপ্লিমেন্টে আইসোফ্লাভোন অতি উচ্চ মাত্রায় থাকায় তা শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। চিকিৎসকরা খাদ্যের মাধ্যমে সরাসরি পুষ্টি গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন, কারণ প্রাকৃতিক সয়া অনেক ক্ষেত্রে ক্যানসার পরবর্তী জটিলতা কমাতেও সহায়ক হতে পারে বলে গবেষণায় দেখা গেছে।
স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সয়া নিয়ে অহেতুক আতঙ্কিত না হয়ে জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। নিয়মিত ব্যায়াম, সুষম আহার, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং ধূমপান ও মদ্যপান বর্জন করা ক্যানসার প্রতিরোধের অন্যতম প্রধান উপায়। বার্ধক্য বা জিনগত কারণগুলো অপরিবর্তনীয় হলেও, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও সক্রিয় জীবনযাপন স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দেয়। সয়া নয়, বরং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই স্বাস্থ্যের জন্য প্রকৃত হুমকি।

