লেটেস্ট নিউজ

ইন্টারকোর্স ছাড়া বীর্যপাত ধর্ষণ নয়, ছত্তিশগড় হাইকোর্টের তাৎপর্যপূর্ণ রায়

ছত্তিশগড় হাইকোর্ট সম্প্রতি ২০ বছর পুরনো একটি মামলার রায় পরিবর্তন করে জানিয়েছে যে, শারীরিক মিলন বা ইন্টারকোর্স ছাড়া কেবল বীর্যপাতকে ধর্ষণ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। বিচারপতি নরেন্দ্র কুমার ব্যাসের একক বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করেছে যে, তৎকালীন ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) ৩৭৫ ধারা অনুযায়ী ধর্ষণ প্রমাণের জন্য পুরুষাঙ্গের প্রবেশ বা পেনিট্রেশন অপরিহার্য। এই রায়ের মাধ্যমে আদালত ২০০৫ সালে নিম্ন আদালত কর্তৃক অভিযুক্তকে দেওয়া ৭ বছরের কারাদণ্ডের সাজা কমিয়ে সাড়ে তিন বছর নির্ধারণ করেছে।

মামলাটির প্রেক্ষাপট ২০০৪ সালের, যেখানে এক নারী অভিযোগ করেছিলেন যে অভিযুক্ত তাঁকে জোরপূর্বক আটকে রেখে যৌন হেনস্থা করেছে। শুনানিতে নির্যাতিতার বয়ানে কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়ে; এক পর্যায়ে তিনি জানান যে অভিযুক্ত তাঁর যৌনাঙ্গের ওপর পুরুষাঙ্গ রাখলেও তা ভেতরে প্রবেশ করায়নি। এছাড়া মেডিকেল রিপোর্টে নির্যাতিতার হাইমেন অক্ষত থাকা এবং চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট মতামতের অভাবকে আদালত গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করেছে। আদালত স্পষ্ট করেছে যে, পূর্ণাঙ্গ ইন্টারকোর্স না হলে তাকে ধর্ষণ বলা আইনত সম্ভব নয়।

প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত রায় দিয়েছে যে, এটি ধর্ষণের ঘটনা নয় বরং ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ ছিল। অভিযুক্তের কর্মকাণ্ডকে অপরাধের প্রস্তুতি এবং প্রত্যক্ষ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করে আদালত তাকে ধারা ৫১১ সহ ৩৭৬-এর অধীনে দোষী সাব্যস্ত করেছে। যেহেতু ঘটনার পর দীর্ঘ ২০ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে এবং এটি একটি ধর্ষণের চেষ্টার মামলা, তাই মানবিক ও আইনি দিক বিবেচনা করে সাজা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আদালত অভিযুক্তকে আগামী দুই মাসের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *