সফটওয়্যারের মাধ্যমে ৭০ হাজার কোটির কর ফাঁকি, হায়দরাবাদের রেস্তরাঁ চেইনে আয়কর হানা
হায়দরাবাদের রেস্তরাঁ চেইনে আয়কর দফতরের তল্লাশিতে দেশজুড়ে চলা এক বিশাল কর ফাঁকির চক্রের হদিস মিলেছে। তদন্তে দেখা গেছে, একটি জনপ্রিয় প্যান-ইন্ডিয়া বিলিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে ২০১৯-২০ অর্থবর্ষ থেকে প্রায় ৭০,০০০ কোটি টাকার বেশি বিক্রি গোপন করা হয়েছে। আয়কর দফতর প্রায় ৬০ টেরাবাইট ডেটা বিশ্লেষণ করে দেখেছে যে, দেশের প্রায় ১০ শতাংশ রেস্তরাঁ এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে জালিয়াতি চালাচ্ছিল। ডিজিটাল অডিটে মোট ২.৪৩ লক্ষ কোটি টাকার বিলিংয়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ তথ্য মুছে ফেলার প্রমাণ মিলেছে।
তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, মূলত তিনটি পদ্ধতিতে এই জালিয়াতি করা হতো: ক্যাশ ইনভয়েস মুছে ফেলা, নির্দিষ্ট সময়ের বিলিং রেকর্ড একঝটকায় গায়েব করা এবং প্রকৃত বিক্রির তুলনায় আয়কর রিটার্নে অনেক কম আয় দেখানো। এআই (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে ১.৭৭ লক্ষ রেস্তরাঁ আইডির তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, কর্নাটক, তেলঙ্গানা এবং তামিলনাড়ুতেই সবচেয়ে বেশি কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে মোট বিক্রির প্রায় ২৭ শতাংশ পর্যন্ত তথ্য গোপন করার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।
হায়দরাবাদ থেকে শুরু হওয়া এই তদন্তের পরিধি এখন বিশাখাপত্তনমসহ দেশের অন্যান্য শহরেও বিস্তৃত হয়েছে। সিবিডিটি (CBDT) জানিয়েছে, কেবল একটি নির্দিষ্ট সফটওয়্যার নয়, রেস্তরাঁ শিল্পে ব্যবহৃত অন্যান্য বিলিং প্ল্যাটফর্মগুলোকেও এখন কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে। যেসব রেস্তরাঁ ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য গোপন করে সরকারকে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আয়কর দফতর। আগামী দিনে এই তদন্ত প্রক্রিয়া আরও জোরদার করার কথা জানানো হয়েছে।

