বাংলার ভোটার তালিকায় নজিরবিহীন কোপ, বাদ পড়ছে ৭০ লক্ষ নাম – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
February 20, 202610:04 am
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ইতিহাসে এক অভাবনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিতে চলেছে নির্বাচন কমিশন। ভোটার তালিকাকে সম্পূর্ণ নির্ভুল এবং স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে শুদ্ধিকরণ অভিযান। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আসন্ন চূড়ান্ত ভোটার তালিকা বা ‘স্পেশাল সামারি রিভিশন’ (SSR) থেকে বাদ পড়তে চলেছে ৭০ লক্ষেরও বেশি নাম। এই বিশাল সংখ্যক ভোটারের নাম বাতিলের প্রক্রিয়া ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
কেন এই গণ-ছাঁটাই?
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ভোটার তালিকা থেকে ভুয়া নাম, দ্বৈত ভোটার এবং মৃত ব্যক্তিদের নাম সরাতেই এই কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক খসড়া তালিকা প্রকাশের সময় প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে স্ক্রুটিনি এবং শুনানির মাধ্যমে আরও প্রায় ৫ লক্ষ নাম তালিকাচ্যুত হয়। এ ছাড়াও শুনানির দিন অনুপস্থিত থাকার কারণে আরও ৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাতিলের তালিকায় রয়েছে। বর্তমানে সব মিলিয়ে বাদ পড়া নামের সংখ্যা প্রায় ৬৮ লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে এবং চূড়ান্ত হিসেব অনুযায়ী তা ৭০ লক্ষ পার করা সময়ের অপেক্ষা।
নথিপত্র যাচাইয়ে কড়া কমিশন
এবার নথিপত্র যাচাইয়ের ক্ষেত্রে কোনওরকম আপস করতে নারাজ কমিশন। প্রায় ৫৫ লক্ষ ভোটারের নথি বর্তমানে যাচাইয়ের অপেক্ষায় রয়েছে, যার মধ্যে ৩০ লক্ষ নাম নির্বাচন কমিশন পুনরায় পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে। অস্পষ্ট নথিপত্র বা অননুমোদিত প্রমাণপত্র ব্যবহারের কারণেই এই কড়াকড়ি। কমিশনের স্পষ্ট বার্তা, নথিতে সামান্যতম ত্রুটি থাকলে সেই নাম তালিকায় রাখা হবে না।
প্রশাসনিক গাফিলতি ও শোকজ নোটিশ
কাজের গতি নিয়ে ক্ষুব্ধ রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল। ভোটার তালিকা যাচাইয়ের জন্য ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, ১৪ ফেব্রুয়ারির ডেডলাইন পেরিয়ে গেলেও বহু নির্বাচনী আধিকারিক প্রয়োজনীয় তথ্য পোর্টালে আপলোড করেননি। এই গাফিলতির কারণে সংশ্লিষ্ট ইআরও (ERO) এবং এইআরও-দের (AERO) শোকজ নোটিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। একবার ‘ERONet’ পোর্টাল বন্ধ হয়ে গেলে তা আর খোলা সম্ভব হবে না বলেও সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর উদ্বেগ ও যান্ত্রিক জটিলতা
এই গণ-ছাঁটাই প্রক্রিয়া নিয়ে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাঁর দাবি, ১ লক্ষেরও বেশি ভোটারের তথ্য পোর্টালে আপলোড করা সম্ভব হয়নি। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১.১৪ লক্ষ ভোটার শুনানির শেষ দিনে উপস্থিত থাকলেও সার্ভার বা পোর্টালের সমস্যার কারণে তাঁদের ডেটা সিস্টেমে নথিভুক্ত করা যায়নি। এই ভোটারদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের দিনক্ষণ
আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে। নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য হল ভোট উৎসবের আগে তালিকা থেকে সমস্ত ধরণের অসঙ্গতি দূর করা। তবে এত বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া কেবল প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ নয়, বরং রাজ্যের আগামী নির্বাচনী সমীকরণেও বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

