লেটেস্ট নিউজ

ব্যর্থতায় শেষ হলো ড. ইউনূসের ১৭ মাসের শাসনকাল, বাড়ল ঋণ ও দারিদ্র্য

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ১৭ মাস দায়িত্ব পালন শেষে বিদায় নিলেন। দারিদ্র্যকে জাদুঘরে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এলেও তার আমলে দেশে নতুন করে ৩০ লাখ মানুষ দরিদ্র হয়েছে বলে বিশ্বব্যাংকের তথ্যে উঠে এসেছে। এই সময়ে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় হয়ে পড়েছে।

অর্থনৈতিক সূচকগুলোতেও চরম বিপর্যয় লক্ষ্য করা গেছে। ড. ইউনূসের শাসনামলে সরকারি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৩ লাখ কোটি টাকায় এবং ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার বিশ্বে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বেসরকারি বিনিয়োগ চার দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসায় শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে এবং বেকারত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও রেমিট্যান্সের ওপর ভর করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিকে তিনি সাফল্য হিসেবে দাবি করেছেন, তবে তা সাধারণের কল্যাণে আসেনি।

প্রশাসনিক ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের ব্যাপক সুযোগ থাকলেও ড. ইউনূস তা কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। তার সময়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গণমাধ্যমের ওপর হামলা এবং মব কালচারের মাধ্যমে অরাজকতা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা বা দুর্নীতি প্রতিরোধের প্রতিশ্রুতি দিলেও শেষ পর্যন্ত অনেক ক্ষেত্রেই তিনি নীরব ছিলেন। ফলে শূন্য দারিদ্র্য ও শূন্য বেকারত্বের স্বপ্ন দেখিয়েও বাস্তবে দেশকে এক অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংকটের মুখে রেখে তিনি বিদায় নিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *