হাইকোর্টে মামলা হতেই কি খুলল কপাল? বিজেপি শাসিত পঞ্চায়েতে আচমকাই ঢুকল লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন শোরগোল। কলকাতা হাইকোর্টের আইনি প্যাঁচে পড়তেই কি টনক নড়ল প্রশাসনের? পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না ব্লকের বিজেপি শাসিত পঞ্চায়েতগুলোতে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পেলেন মহিলারা। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর খাসতালুক বলে পরিচিত এই এলাকায় মাসের পর মাস কেন টাকা আটকে ছিল, তা নিয়ে এখন তুঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক।
ঠিক কী ঘটেছিল?
ময়না ব্লকের বাকচা এবং গোজিনা গ্রাম পঞ্চায়েত বর্তমানে বিজেপির দখলে। অভিযোগ, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকে বাকচা পঞ্চায়েতের প্রায় ৭,০০০ মহিলার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা আচমকাই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। বারবার প্রশাসনের দরজায় কড়া নেড়েও কোনো সুরাহা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত আদালতের শরণাপন্ন হন পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য সুনীতা মণ্ডল সাহু।
আদালতের কড়া অবস্থান
প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি চৈতালী চট্টোপাধ্যায় দাসের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি চলাকালীন রাজ্য সরকারকে তীব্র প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। রাজ্যের আইনজীবী যখন দাবি করেন যে ইতিমধ্যেই টাকা পাঠানো শুরু হয়েছে, তখন আদালত পালটা প্রশ্ন তোলে— এতদিন কেন এই অর্থপ্রদান আটকে রাখা হয়েছিল? দীর্ঘসূত্রিতার কারণ ব্যাখ্যা করে আগামী ৩ সপ্তাহের মধ্যে রাজ্য সরকারকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।
রাজনৈতিক চাপানউতোর
চলতি মাস থেকেই রাজ্য সরকার লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের অনুদান বাড়িয়ে তপশিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলাদের জন্য ১,৭০০ টাকা এবং সাধারণ শ্রেণির মহিলাদের জন্য ১,৫০০ টাকা করেছে। মামলাকারীর আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য আদালতে যুক্তি দেন, বিরোধী দলের দখলে থাকা পঞ্চায়েত হওয়ার কারণেই কি এই বঞ্চনা? রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই কি সাধারণ মহিলারা তাঁদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত ছিলেন? এখন আদালতের নির্দেশে রাজ্য সরকার কী সাফাই দেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।

