স্পেনে ৫ লক্ষ প্রবাসীর ভাগ্যবদল! অবৈধ থেকে বৈধ হওয়ার ঐতিহাসিক সুযোগে কী কী সুবিধা পাবেন, জেনে নিন – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ইউরোপের অন্যান্য দেশ যখন অভিবাসীদের জন্য নিজেদের দরজা বন্ধ করতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই এক অভাবনীয় ও মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করল স্পেন। প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজের নেতৃত্বাধীন স্পেন সরকার সে দেশে বসবাসরত প্রায় ৫ লক্ষ অনথিভুক্ত বা ‘অবৈধ’ প্রবাসীকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। গত ২০ বছরের মধ্যে এটিই স্পেনের সবথেকে বড় অভিবাসন সংস্কার উদ্যোগ। সরকারের এই সাহসী পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো প্রবাসীদের মূলধারার অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করা এবং তাদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
আবেদনের যোগ্যতা ও শর্তাবলি
স্পেন সরকারের নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, এই বিশেষ প্রক্রিয়ায় বৈধতা পেতে হলে আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে:
- বসবাসের সময়সীমা: আবেদনকারীকে অবশ্যই ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের আগে থেকে স্পেনে অবস্থান করতে হবে।
- নিরবচ্ছিন্ন প্রমাণ: আবেদন জমা দেওয়ার সময় স্পেনে অন্তত টানা পাঁচ মাস বসবাসের অকাট্য প্রমাণ দাখিল করতে হবে।
- ক্লিন রেকর্ড: আবেদনকারীর নামে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড বা ক্রিমিনাল কেস থাকা চলবে না।
সুযোগ-সুবিধার নতুন দিগন্ত
যারা এই প্রক্রিয়ায় বৈধতা পাবেন, তারা সরাসরি স্পেনের আইনি পরিকাঠামোর আওতায় চলে আসবেন। এর ফলে তারা যেসব সুবিধা পাবেন:
- কাজের অনুমতি: আবেদন মঞ্জুর হওয়ার সাথে সাথেই প্রবাসীরা বৈধভাবে কাজ করার সুযোগ পাবেন। এর ফলে তারা অসাধু মালিকদের শোষণ ও কালোবাজারি শ্রম থেকে মুক্তি পাবেন।
- রেসিডেন্স পারমিট: প্রাথমিকভাবে সফল আবেদনকারীদের এক বছরের জন্য রেসিডেন্স পারমিট বা বসবাসের অনুমতি দেওয়া হবে।
- সামাজিক নিরাপত্তা: বৈধ হওয়ার ফলে প্রবাসীরা পেনশন, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য সরকারি সামাজিক সুরক্ষা সুবিধা পাওয়ার অধিকারী হবেন।
- পরিবারের সুরক্ষা: অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের ক্ষেত্রে পাঁচ বছর পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদী রেসিডেন্স পারমিট দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যা প্রবাসী পরিবারগুলোর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করবে।
গুজব বনাম বাস্তবতা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এ এই সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। কেউ কেউ একে ২০২৭ সালের নির্বাচনের ‘ভোট ব্যাংক রাজনীতি’ হিসেবে দাবি করছেন। তবে স্প্যানিশ মিডিয়া ও সরকারি সূত্র এই দাবি সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছে।
নাগরিকত্ব ও ভোটাধিকার নিয়ে সতর্কতা:
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই বৈধতা পাওয়ার অর্থ এই নয় যে তারা সরাসরি স্পেনের নাগরিকত্ব বা ভোট দেওয়ার অধিকার পাবেন। স্পেনে জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে গেলে নাগরিকত্ব থাকা বাধ্যতামূলক, যা অর্জনের জন্য সাধারণত ১০ বছরের বৈধ বসবাসের প্রয়োজন হয়। তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভোটাধিকার সংক্রান্ত খবরগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
কবে থেকে শুরু হবে প্রক্রিয়া?
আশা করা যাচ্ছে, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে জুনের মধ্যে এই গণ-বৈধকরণ বা রেগুলারাইজেশন প্রক্রিয়াটি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। স্পেন সরকারের এই পদক্ষেপ কেবল মানবাধিকার রক্ষাই করবে না, বরং দেশের অর্থনীতিতে নতুন প্রাণসঞ্চার করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

