মাসের পর মাস না খেয়েও সাপ কীভাবে বেঁচে থাকে? জেনে নিন প্রকৃতির এই রহস্যময় বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
প্রকৃতির এক অপার বিস্ময় হলো সাপ। কখনও ভেবে দেখেছেন, মাসের পর মাস এক দানাও খাবার না খেয়ে কীভাবে দিব্যি বেঁচে থাকে এই সরীসৃপটি? যেখানে মানুষ বা অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীরা কয়েক দিন না খেলেই নুইয়ে পড়ে, সেখানে সাপের এই দীর্ঘ উপবাসের রহস্য বিজ্ঞানীদেরও অবাক করে।
শীতল রক্ত ও ধীর বিপাকক্রিয়া
সাপ হলো শীতল-রক্তের প্রাণী। এরা স্তন্যপায়ীদের মতো নিজেদের শরীরের তাপমাত্রা নিজেরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, বরং পরিবেশের তাপমাত্রার ওপর নির্ভর করে। এই কারণেই সাপের বিপাকক্রিয়া বা মেটাবলিজম অত্যন্ত ধীর গতির হয়। ধীর বিপাকক্রিয়ার ফলে এদের শরীরের শক্তি খরচ খুব কম হয়, যা তাদের দীর্ঘ সময় না খেয়ে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে।
বিশাল শিকার ও হজম প্রক্রিয়া
পাইথন বা বোয়া জাতীয় সাপ যখন বড় কোনো শিকার যেমন— ইঁদুর, খরগোশ বা হরিণশাবক গিলে ফেলে, তখন তাদের শরীরে নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে। গবেষণায় দেখা গেছে, বড় শিকার হজম করার সময় সাপের হৃদযন্ত্র, যকৃত ও অন্ত্রের আকার সাময়িকভাবে বেড়ে যায়। হজম শেষ হলে অঙ্গগুলো আবার স্বাভাবিক আকারে ফিরে আসে। একবার বড় কোনো খাবার খেলে এরা দুই থেকে তিন মাস পর্যন্ত নিশ্চিন্তে কাটিয়ে দিতে পারে।
শক্তি সঞ্চয়ের জাদুকরী কৌশল
সাপ মূলত তাদের শরীরে চর্বি হিসেবে শক্তি জমা রাখে। যখন খাবার পায় না, তখন তারা নড়াচড়া কমিয়ে দিয়ে একদম স্থির হয়ে থাকে। এতে শরীরের সঞ্চিত চর্বি ভেঙে শক্তি উৎপন্ন হয় এবং অপ্রয়োজনীয় ক্যালোরি খরচ হওয়া বন্ধ হয়ে যায়।
শীতকালীন ঘুম বা ব্রুমেশন
শীতকালে অনেক সাপ ‘ব্রুমেশন’ নামক এক বিশেষ অবস্থায় চলে যায়, যা অনেকটা অর্ধনিদ্রার মতো। এই সময় তাদের শরীরের সব ধরনের কার্যকলাপ কমে যায়, ফলে দীর্ঘ সময় খাবারের কোনো প্রয়োজনই পড়ে না।
তবে সব সাপের ক্ষেত্রে এই নিয়ম খাটে না। বিশেষ করে ছোট প্রজাতির সাপ বা সদ্য জন্মানো বাচ্চাদের বেঁচে থাকার জন্য নিয়মিত খাবারের প্রয়োজন হয়। মূলত ধীর বিপাকক্রিয়া এবং পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতাই সাপকে মাসের পর মাস না খেয়ে বেঁচে থাকার শক্তি জোগায়।

