গর্ভস্থ সন্তানকে খুনের নির্দেশ! পাক অলরাউন্ডার ইমাদ ওয়াসিমের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
পাকিস্তানের ক্রিকেট মহলে এখন তুমুল শোরগোল। মাঠের পারফরম্যান্স নয়, বরং ব্যক্তিগত জীবনের এক ভয়ঙ্কর অভিযোগে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে পাক অলরাউন্ডার ইমাদ ওয়াসিম। তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী সানিয়া আশরাফ সরাসরি ইমাদের বিরুদ্ধে ‘খুন’ এবং চরম মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ এনে বিচার চাইলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভির কাছে।
‘আমাকে গর্ভপাতে বাধ্য করা হয়েছিল’
সানিয়া আশরাফের দাবি অনুযায়ী, ২০২৩ সালে যখন তিনি অন্তসত্ত্বা ছিলেন, তখন ইমাদ ওয়াসিম তাঁকে জোরপূর্বক গর্ভপাত করাতে বাধ্য করেন। সমাজমাধ্যমে একটি আবেগঘন ভিডিয়ো পোস্ট করে সানিয়া জানিয়েছেন, “আমি আমার অনাগত সন্তানের জন্য বিচার চাই। আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে আমাকে সেই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করা হয়েছিল। সেই সময় আমি শারীরিক ও মানসিক ভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলাম।” সানিয়ার অভিযোগ, বিপদের দিনে পাশে থাকা তো দূর অস্ত, উল্টে ইমাদ তাঁকে প্রতিনিয়ত সন্দেহ করতেন এবং নানাভাবে হেনস্থা করতেন।
প্রধানমন্ত্রী ও পিসিবি চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপ দাবি
সানিয়া কেবল অভিযোগ করেই ক্ষান্ত হননি, তিনি এবার ন্যায়বিচারের আশায় সরকারি স্তরে দরবার শুরু করেছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান তথা অভ্যন্তরীণ বিষয়কমন্ত্রী মহসিন নকভির সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তিনি। তাঁর দাবি, একজন প্রভাবশালী ক্রিকেটার হওয়ার সুবাদে ইমাদ তাঁর ওপর যে অত্যাচার চালিয়েছেন, তার যোগ্য বিচার হওয়া প্রয়োজন। সানিয়া স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তাঁর কাছে এই সমস্ত অভিযোগের সপক্ষে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ রয়েছে।
বিচ্ছেদ ও নতুন বিয়ের পরেই সংঘাতের শুরু
২০১৯ সালে সানিয়ার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন ইমাদ ওয়াসিম। তাঁদের দুটি সন্তানও রয়েছে—একটি মেয়ে ও একটি ছেলে। তবে সমস্যার সূত্রপাত হয় তাঁদের তৃতীয় সন্তানের সময় থেকে। গত ডিসেম্বর মাসেই সানিয়ার সঙ্গে ইমাদের বিচ্ছেদ সম্পন্ন হয়। এর কয়েক দিন পরেই ইমাদ পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতেই সরব হয়েছেন প্রাক্তন স্ত্রী। সানিয়ার অভিযোগ, গর্ভবতী থাকাকালীন তাঁকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হত এবং সন্তানদের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হত। এমনকি যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাঁর বিরুদ্ধে হয়রানির মামলা করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন এই পাক ক্রিকেটার।
পিএসএল-এ ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের দামী খেলোয়াড় হিসেবে নাম লেখানোর ঠিক আগেই ইমাদ ওয়াসিমের এই ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারি তাঁর ক্রিকেট কেরিয়ারকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিল। এখন দেখার, পাকিস্তান সরকার বা ক্রিকেট বোর্ড এই স্পর্শকাতর বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়।

