ইরান-মার্কিন সামরিক উত্তেজনা: ট্রাম্পের রণকৌশল ও রমজান বিতর্ক
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক অচলাবস্থা দ্রুত সামরিক সংঘাতের দিকে মোড় নিচ্ছে। পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে সমঝোতার আশা ক্ষীণ হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের পর বৃহত্তম সামরিক মোতায়েন সম্পন্ন করেছে আমেরিকা। ইজরায়েলও এই সম্ভাব্য অভিযানে যুক্ত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে পবিত্র রমজান মাসে হামলার নেতিবাচক প্রভাব ও মুসলিম মিত্র দেশগুলোর সম্ভাব্য বিরোধিতা নিয়ে পেন্টাগনের অন্দরেই সংশয় তৈরি হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে পরমাণু অস্ত্র ত্যাগের চূড়ান্ত সময়সীমা দিলেও ইরান নিজেদের সার্বভৌম অধিকার রক্ষায় অনড়। ওমানের মধ্যস্থতায় আলোচনার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় দু-পক্ষই এখন যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর আসন্ন বৈঠক এই সংঘাতের রূপরেখা নির্ধারণ করতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, হামলা হলে তা কেবল পারমাণবিক স্থাপনায় সীমাবদ্ধ থাকবে নাকি শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্যে পরিচালিত হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। সামরিক বিশ্লেষক ডেভিড দে রশেসের মতে, সংঘাত শুরু হলে প্রথমে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌ শাখাকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে তেহরান জানিয়েছে, হামলা হলে অঞ্চলজুড়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো নিরাপদ থাকবে না। যুদ্ধ শুরু করা সহজ হলেও তার নিয়ন্ত্রণ ও দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা বজায় রাখা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

