ইউরোপের কড়া আইনের মুখে উল্টো পথে স্পেন, ৫ লাখ অভিবাসীকে বৈধতা দেওয়ার ঐতিহাসিক ঘোষণা – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ইউরোপের একাধিক দেশ যখন অভিবাসীদের জন্য তাদের সীমান্ত কার্যত বন্ধ করে দিচ্ছে এবং কঠোর আইন প্রণয়ন করছে, তখন সম্পূর্ণ মানবিক ও অর্থনৈতিক এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল স্পেন। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ ঘোষণা করেছেন যে, দেশটিতে বসবাসরত প্রায় ৫ লাখ অনিয়মিত অভিবাসীকে আইনি মর্যাদা বা বৈধতা দেওয়া হবে। বিগত ২০ বছরের ইতিহাসে এটি স্পেনের সবচেয়ে বড় অভিবাসন সংস্কার পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য হলো অনথিভুক্ত অভিবাসীদের মূলধারার অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করা এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করা।
কারা পাবেন এই বিশেষ সুযোগ
স্পেন সরকারের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এই বৈধতা পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে:
- বসবাসের সময়সীমা: আবেদনকারীকে অবশ্যই ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫-এর আগে থেকে স্পেনে বসবাস করতে হবে।
- প্রমাণপত্র: আবেদনের সময় অন্তত টানা পাঁচ মাস স্পেনে থাকার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দাখিল করতে হবে।
- আইনি রেকর্ড: আবেদনকারী ব্যক্তির কোনো ধরনের অপরাধমূলক রেকর্ড বা ক্রিমিনাল ব্যাকগ্রাউন্ড থাকা চলবে না।
আশা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে এই আইনি প্রক্রিয়া বা আবেদন গ্রহণ শুরু হবে।
অভিবাসীদের জন্য কী কী সুবিধা থাকছে
যাঁরা এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বৈধতা পাবেন, তাঁরা প্রাথমিকভাবে এক বছরের ‘রেসিডেন্স পারমিট’ বা বসবাসের অনুমতি পাবেন। এর ফলে তাঁরা যে সুবিধাগুলো ভোগ করতে পারবেন:
- বৈধ কাজের সুযোগ: আবেদন গ্রহণ হওয়ার সাথে সাথেই তাঁরা বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি পাবেন। এর ফলে তাঁরা শ্রমবাজারে শোষণ থেকে মুক্তি পাবেন এবং ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত হবে।
- সামাজিক সুরক্ষা: বৈধ কর্মী হিসেবে তাঁরা পেনশন এবং অন্যান্য সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধার আওতায় আসবেন।
- পরিবারের স্থিতিশীলতা: নাবালক শিশুদের ক্ষেত্রে পাঁচ বছর পর্যন্ত বসবাসের অনুমতি দেওয়া হতে পারে, যা অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।
সোশ্যাল মিডিয়ার বিভ্রান্তি ও আসল সত্য
বর্তমানে এক্স (টুইটার) সহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় রটানো হচ্ছে যে, ২০২৭ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোট ব্যাংক তৈরির জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং সরকারি সূত্র এই দাবিকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে।
প্রকৃত তথ্য হলো, এই বৈধতা পাওয়ার অর্থ এই নয় যে অভিবাসীরা সরাসরি নাগরিকত্ব বা ভোট দেওয়ার অধিকার পেয়ে যাবেন। স্পেনে জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে হলে নাগরিকত্ব থাকা বাধ্যতামূলক, যা অর্জনের জন্য সাধারণত ১০ বছর বৈধভাবে বসবাসের প্রয়োজন হয়। তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভোটের অধিকার সংক্রান্ত দাবিগুলো সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর। স্পেন সরকারের মতে, এই পদক্ষেপ কেবল অভিবাসীদের মানবাধিকার রক্ষা করবে না, বরং দেশের অর্থনীতিকেও শক্তিশালী করবে।

