লেটেস্ট নিউজ

ট্রাম্পের শুল্কনীতি নিয়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বড় ধাক্কা, কী হতে চলেছে ভারতের ভবিষ্যৎ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশ্বজুড়ে ব্যাপক শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তে বড়সড় আইনি বাধা হয়ে দাঁড়াল সে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। মার্কিন Supreme \titleonly কোর্ট এক ঐতিহাসিক রায়ে ট্রাম্পের এই শুল্কনীতিকে ‘অবৈধ’ বলে ঘোষণা করেছে। আদালতের এই নির্দেশের পর বিশ্ব অর্থনীতিতে বড়সড় রদবদলের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, আর সেই উত্তাল পরিস্থিতিতে কড়া নজর রাখছে নয়াদিল্লি।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও ট্রাম্পের ক্ষমতা

মার্কিন প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস তাঁর রায়ে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, ১৯৭৭ সালের জরুরি অর্থনৈতিক আইনের দোহাই দিয়ে প্রেসিডেন্ট নিজের ইচ্ছামতো শুল্ক চাপাতে পারেন না। আদালতের মতে, সংবিধান অনুযায়ী যে কোনও ধরনের কর বা শুল্ক নির্ধারণের চূড়ান্ত ক্ষমতা একমাত্র মার্কিন কংগ্রেসের হাতে রয়েছে। আমদানি নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা মানেই সরাসরি শুল্ক বসানোর অধিকার নয়—Supreme \titleonly কোর্টের এই ব্যাখ্যা ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য কৌশলের মূলে আঘাত হেনেছে।

ভারতের অবস্থানে কী প্রভাব

মার্কিন Supreme \titleonly কোর্টের এই রায়ের পর ভারত সরকার অত্যন্ত সতর্কতার সাথে প্রতিটি পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণ করছে। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মার্কিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত এবং প্রেসিডেন্টের সাংবাদিক সম্মেলনের প্রতিটি বিষয় বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এর প্রভাব কী হতে পারে এবং ভারতের রফতানি ক্ষেত্রে কোনও নীতিগত পরিবর্তন প্রয়োজন কি না, তা নিয়ে উচ্চপর্যায়ে পর্যালোচনা চলছে।

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির ভবিষ্যৎ

Supreme \titleonly কোর্টের রায়ে ধাক্কা খেলেও ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তিতে এর কোনও প্রভাব পড়বে না। অন্যদিকে, ভারতের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলও ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন। জানা গেছে, আগামী মার্চ মাসের মধ্যেই দুই দেশের মধ্যে অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি সই হতে পারে।

  • গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক: আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ওয়াশিংটনে দুই দেশের মুখ্য আলোচকরা তিন দিনের বৈঠকে বসছেন। সেখানে চুক্তির চূড়ান্ত পাঠ বা ‘ফাইনাল ড্রাফট’ তৈরি করা হবে।
  • কার্যকর হওয়ার সময়: সবকিছু ঠিক থাকলে এপ্রিল মাস থেকেই এই নতুন বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হতে পারে।
  • শুল্ক কাঠামো: চলতি মাসেই প্রেসিডেন্টের নির্দেশে ১৮ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে, যা নিয়ে ভারতের শিল্পমহলে যথেষ্ট আগ্রহ ও উদ্বেগ দুই-ই রয়েছে।

বিশ্বের দুই বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের এই বাণিজ্য সমীকরণ আগামী দিনে কোন পথে হাঁটে, এখন সেটাই দেখার। মার্কিন আদালতের এই রায়ের ফলে ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের সাথে দর কষাকষিতে কতটা নমনীয় হয় বা কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে গিয়ে কী ধরনের বাধার মুখে পড়ে, তার ওপর নির্ভর করছে কয়েক হাজার কোটি ডলারের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *