রাজনৈতিক সমীকরণ ও ভাষা দিবসের মঞ্চে কেন্দ্রকে কড়া হুঁশিয়ারি মমতার
রাজ্য রাজনীতিতে নয়া চমক দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান গ্রহণ করলেন বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজ। মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি কোচবিহারের উন্নয়নে বিজেপির ভূমিকা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন। এর ফলে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে অনন্ত মহারাজের দলবদল ও রাজবংশী ভোটব্যাংকের সমীকরণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে।
একই মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ‘স্বৈরাচারী’ আচরণের অভিযোগ তুলে সরব হন। তিনি দাবি করেন, ভিন রাজ্যে বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের ‘বাংলাদেশি’ বলে চিহ্নিত করে হেনস্থা করা হচ্ছে। পুণেতে পুরুলিয়ার এক শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনাকে ‘বিদ্বেষমূলক অপরাধ’ আখ্যা দিয়ে তিনি দোষীদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন। এছাড়া ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে তিনি একে বাংলা দখলের ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করেন।
সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত অধিকার রক্ষার ডাক দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান, বাংলার মানুষের ওপর কোনো আধিপত্য মেনে নেওয়া হবে না। খাবার বা পোশাকের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের প্রচেষ্টার নিন্দা করে তিনি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। সব ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করলেও, বাংলা ও বাঙালির অপমানের বিরুদ্ধে তিনি আমৃত্যু লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অনুষ্ঠানটি রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক কৌশলের এক অনন্য প্রতিফলন।

