অবতরণের সময় রানওয়ে থেকে ছিটকে গেল তেজস, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ৩০টি যুদ্ধবিমান বসানোর সিদ্ধান্ত
ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি তেজস যুদ্ধবিমান ফের দুর্ঘটনার কবলে পড়ল। গত ৭ ফেব্রুয়ারি একটি বায়ুসেনা ঘাঁটিতে প্রশিক্ষণ শেষে অবতরণের সময় যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে বিমানটি রানওয়ে থেকে ছিটকে যায়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অবতরণের মুহূর্তে বিমানটির ব্রেক কাজ করেনি। তবে বিপদ বুঝে পাইলট সঠিক সময়ে বেরিয়ে আসায় বড়সড় প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। যদিও দুমড়ে যাওয়া বিমানটি মেরামতির অযোগ্য হয়ে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পর তেজস যুদ্ধবিমানের নিরাপত্তা ও যান্ত্রিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বায়ুসেনা কর্তৃপক্ষ প্রায় ৩০টি এক আসনবিশিষ্ট তেজস বিমান সাময়িকভাবে বসিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষজ্ঞ দল এই বিমানগুলির ইঞ্জিন ও ব্রেকিং সিস্টেম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করে দেখার পর পুনরায় ওড়ানোর অনুমতি দেবে। হিন্দুস্থান এরোনটিক্স লিমিটেডের তৈরি এই বিমানের উৎপাদন ও সরবরাহ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
তেজসের ইতিহাসে এটি তৃতীয় বড় দুর্ঘটনা। এর আগে ২০২৪ সালের মার্চে রাজস্থানে এবং পরবর্তীতে দুবাই এয়ার শো চলাকালীন এই যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিল। ভারত সরকার ধাপে ধাপে কয়েকশ কোটি টাকার বিনিময়ে তেজস তৈরির বরাত দিলেও বারবার যান্ত্রিক ত্রুটির ঘটনা বায়ুসেনার কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। বর্তমানে জিই এরোস্পেস থেকে ইঞ্জিনের জোগান পেতে বিলম্ব হওয়ায় নতুন বিমান তৈরির কাজও ধীরগতিতে চলছে বলে জানা গেছে।

